স্পেন থেকে ঘোড়ায় চড়ে মক্কায় গিয়ে হজ আদায়

স্পেনের তিনজন নাগরিক ঘোড়ার পিঠে চড়ে সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র হজ পালন করেছেন। এ যাত্রায় তাদের বহু চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে। সাত মাসের অক্লান্ত চেষ্টার পর তারা সৌদি আরবে পৌঁছান। তাদের এই যাত্রার পেছনে রয়েছে চমকপ্রদ ঘটনা। ১৯৮৯ সালে সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আবদুল্লাহ রাফায়েল হারনান্দেজ। তিনি নির্ধারিত বিষয়ের বাইরেও পড়াশোনা শুরু করেন। বাইবেল পড়েন, স্প্যানিশ অভিধান পড়েন। একদিন পবিত্র  কোরআনের পাতা ওল্টাতে গিয়ে আয়াতগুলো তাকে আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে ভৌগোলিক বর্ণনা। এ সময় হারনান্দেজ দুটি শপথ করেন। একটি হলো, পরীক্ষায় পাস করলে মুসলিম হবেন। অন্যটি, ঘোড়ায় চেপে মক্কায় গিয়ে পবিত্র হজ পালন করবেন। যেমনটা আন্দালুসিয়ার মুসলিমরা করতেন। নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করার পর হারনান্দেজ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। নিজের নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ রাখেন।

এরপর কেটে যায় প্রায় ৩৫ বছর। গত বছরের অক্টোবরে তিনি অবসরে যান। অবশেষে দ্বিতীয় ইচ্ছাটি পূরণের সিদ্ধান্ত নেন হারনান্দেজ। হারনান্দেজ ও তার সফরসঙ্গীরা দক্ষিণ ইউরোপ ঘুরে হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্পেনের হুয়েলভা প্রদেশের একটি ছোট শহর থেকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু করেন। সঙ্গে যোগ দেন আবদেলকাদের হারকাসি ও তারেক রদ্রিগেজ। স্পেন পার হওয়ার আগেই হজযাত্রীদের নিজেদের খাবার, ঘোড়ার খাবার ও সঙ্গে নেওয়া টাকা-পয়সা শেষ হয়ে যায়। পরে নাভার এলাকার বুঞ্জুয়েল গ্রামে মরক্কোর একদল দিনমজুর তাদের প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউরো দেন। হারনান্দেজ বলেন, ফ্রান্স ও ইতালির মধ্যকার আল্পস পর্বতমালা পার হওয়ার সময় তাদের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। ওই সময় তীব্র শীত ও তুষারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।

ইতালিতে পৌঁছানোর পর ভেরোনায় সৌদি ইনফ্লুয়েন্সার আবদেল রহমান আল-মুতিরির সঙ্গে দেখা হয় এই তিন স্প্যানিশ হজযাত্রী। তাদের হজযাত্রার গল্প শুনে তিনি তাদের তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তারাও তার প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেন। মুসলিম দর্শকদের মধ্যে সৌদি ইনফ্লুয়েন্সারের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি স্প্যানিশ হজযাত্রীদের গল্প অনলাইনে ছড়িয়ে দেন, যা পরবর্তী সময়ে তাদের যাত্রায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরপর হজযাত্রীরা সেøাভেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া পার হয়ে বসনিয়া ও সার্বিয়ায় প্রবেশ করেন। তবে নিয়মের কারণে নিজেদের ঘোড়া রেখে দিতে হয় সেখানে। তারা সারায়েভোর একটি ঘোড়ার ক্লাব থেকে ঘোড়া নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। বিধিনিষেধের কারণে হজযাত্রীদের গাড়িতে চড়ে বুলগেরিয়া পার হতে হয়। তবে তুরস্কে আবার তারা ঘোড়ায় চড়ে যাত্রা চালিয়ে যান।

হারনান্দেজ জানান, তারা পবিত্র রমজান মাসে তুরস্কে প্রবেশ করেন। দেশটির যেখানেই গেছেন, সেখানকার পুলিশ, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন ইফতারের জন্য খাবার দিয়ে তাদের সাহায্য করেছেন। হারনান্দেজ বলেন, তুরস্কে প্রবেশের পর থেকে আমরা আর রান্না করিনি। এরপর তারা সিরিয়া পার হন। সিরিয়ায় স্প্যানিশ হজযাত্রীদের স্বাগত জানান দেশটির নতুন সংস্কৃতিমন্ত্রী মোহাম্মদ সালেহ এবং তথ্যমন্ত্রী হামজা মুস্তাফা। সিরিয়ার পর জর্ডানের মরুভূমি পার হয়ে সৌদি আরবে ঢোকেন তিন স্প্যানিশ হজযাত্রী।