চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী কোচ, বর্তমানে পিএসজির ডাগআউটে থাকা লুইস এনরিকে ক্লাব বিশ্বকাপে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একগুচ্ছ মন্তব্য করেছেন, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ থেকে আর্জেন্টিনা পর্যন্ত। বোকা জুনিয়র্স কিংবা রিভার প্লেটের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের কোচ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি এই স্প্যানিশ টেকটিশিয়ান।
বিশ্বকাপের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনরিকে বলেন, ‘দক্ষিণ আমেরিকায় অনেক ঐতিহাসিক ক্লাব আছে। বোকা জুনিয়র্স, রিভার প্লেট, বোটাফোগো, সান্তোস, পালমেইরাস—এসব ক্লাব ঘিরে যে আবেগ আর ইতিহাস, তা আমাকে মুগ্ধ করে। ভবিষ্যতে এমন কিছু হতে পারে। আমি কোনো দরজা বন্ধ করছি না, কারণ কখন কী হয় বলা যায় না। আমি সব কিছুর জন্যই প্রস্তুত।’
বক্তব্যটি ভাইরাল হয়ে যায় বিশেষ করে আর্জেন্টিনায়। বোকা বা রিভারের মতো ক্লাবের প্রতি এনরিকের আগ্রহ তাদের সমর্থকদের কৌতূহলী করে তোলে। এমনকি অনেক ফুটবলবোদ্ধাও মন্তব্য করেছেন, ইউরোপীয় সফল কোচের এমন আগ্রহ লাতিন ফুটবলের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
তবে একই মঞ্চে এনরিকের আরেকটি বক্তব্য ঘুরেফিরে সামনে এসেছে, যা পিএসজির বোটাফোগোর কাছে ১-০ গোলে হারের পর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ফিফার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘সাধারণভাবে বলতে গেলে ইউরোপীয় দলগুলোই ফেভারিট হবে। কারণ আমাদের দলে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড় তো আছেই, সঙ্গে আফ্রিকা, আমেরিকা ও এশিয়ার সেরারাও রয়েছে। এই বৈচিত্র্যই আমাদের এগিয়ে রাখে।’
কিন্তু ক্লাব বিশ্বকাপে বোটাফোগোর কাছে হেরে ইউরোপের ১৩ বছরের অপরাজেয় রেকর্ড ভাঙে। আর সেই সঙ্গে এনরিকের ‘ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব’ নিয়ে মন্তব্য ঘুরে দাঁড়ায় তার দিকেই।
সব মিলিয়ে লুইস এনরিক যেন কথায় কথায় ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছেন। একদিকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে বোকা-রিভারের মতো আবেগময় ক্লাবের প্রতি উন্মুক্ত আগ্রহ। এই মুহূর্তে হয়তো তিনি প্যারিসে, কিন্তু ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে তাকে বুয়েনস আইরেসের লা বোম্বোনেরা বা মনুমেন্টালে—সেটা যে অসম্ভব নয়, তা তো তিনিই বলে দিয়েছেন।