দেরিতে ম্যাচ শুরু করায় ম্যানসিটিকে ১ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা

এক মৌসুমে নয়টি ম্যাচ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে শুরু বা পুনরায় শুরু করেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এজন্য ক্লাবটিকে ১০ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা) জরিমানা করেছে প্রিমিয়ার লিগ। সবচেয়ে বেশি দেরি হয়েছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে—দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট ২৪ সেকেন্ড পর। পুরো মৌসুমে এমন দেরি হয় মোট নয়টি ম্যাচে।

এর আগের মৌসুমে আরও বড় শাস্তির মুখে পড়েছিল সিটি—তখন ২২টি ম্যাচে দেরির কারণে জরিমানা হয়েছিল ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি। সেই সময় কোচ পেপ গার্দিওলা বলেছিলেন, ভবিষ্যতে সংক্ষিপ্ত টিম টক দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

প্রিমিয়ার লিগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কিক-অফ ও রিস্টার্ট সময় নিয়ে নির্ধারিত নিয়ম প্রতিটি ম্যাচকে পেশাদার ও পরিকল্পিত রাখে। ব্রডকাস্টারদের নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে ম্যাচ সম্প্রচারে সহায়তা করে এসব নিয়ম।’

ম্যান সিটি অবশ্য এসব নিয়ম ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে। জরিমানার অর্থ ১৪ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তবে ২০২৪-২৫ মৌসুমে আগের চেয়ে শৃঙ্খলার উন্নতি করেছে তারা। গত মৌসুমের তুলনায় ৫৯ শতাংশ দেরি কম হয়েছে ম্যাচ শুরুর ক্ষেত্রে।

সিটি তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছে, গত মৌসুমে কোনো শিরোপা না পাওয়ায় প্রতিটি ম্যাচে বাড়তি বার্তা দিতে চাইছিলেন কোচ গার্দিওলা। এজন্যই হয়তো কিছুটা সময় লেগে গিয়েছিল টিম টকে। তবে তারা স্বীকার করছে—এটা প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম ভঙ্গ করেছে।

সিটি এখনও অপেক্ষা করছে আরও বড় এক মামলার রায়ের জন্য। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১১৫টি অভিযোগ। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার বছরের তদন্ত শেষে বিষয়টি স্বতন্ত্র কমিশনে পাঠানো হয়। সিটি অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কাছে "অবিসংবাদিত প্রমাণ" রয়েছে।

কিন্তু দেরিতে মাঠে ফেরা কি শুধুই অতিরিক্ত পরিকল্পনা, না গা ছাড়া মনোভাব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে থাকতে পারে অতিমাত্রায় ‘ডিটেইল্ড’ পরিকল্পনার আগ্রহ। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, সিটির পক্ষ থেকে এটি নিয়ম না মানার উদাসীনতা। যেমন—২০২৩ সালের অক্টোবরে সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে প্রথমবার নিয়ম ভঙ্গ হয়, যখন দলটি প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল, বিরতিতে কোনো পরিবর্তনও হয়নি, তবু ২ মিনিট ১০ সেকেন্ড দেরিতে মাঠে ফেরে তারা।

প্রিমিয়ার লিগের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাচ শুরু ও বিরতির পর মাঠে ফেরা নিয়ন্ত্রণযোগ্য, এবং সেটিই প্রত্যাশিত। কারণ সম্প্রচারকারীরা কোটি কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করে থাকেন সময়মতো ম্যাচ সম্প্রচারের নিশ্চয়তা নিয়ে।

আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের ১১৫টি অভিযোগে এখনো বিচারের অপেক্ষায় ক্লাবটি। ম্যানচেস্টার সিটি যদি ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম না থামায়, তাহলে আরও কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে পারে—এটা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ।