গল টেস্ট এখন এমন এক মোড় নিয়েছে, যেখান থেকে জয়, ড্র কিংবা পরাজয়—সবই সম্ভব বাংলাদেশের জন্য। প্রথম ইনিংসে ১০ রানে পিছিয়ে থেকেও চতুর্থ দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৭৭ রান তুলে ১৮৭ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। সব ঠিকঠাক চললে, এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো গল টেস্টে জয়ও দেখা দিতে পারে টাইগার শিবিরে।
শেষ দিনে স্বাগতিকদের হারাতে চাইলে স্কোরবোর্ডে ৩০০ কিংবা তার বেশি রানের লিড তুলে নিতে হবে বাংলাদেশকে। ড্র করতেও দরকার বড় পুঁজি, যাতে লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ে ঠেকিয়ে রাখা যায় পুরো দিন। আবার ব্যাটিং বিপর্যয় হলে, ওয়ানডে মেজাজে খেলেও জিততে পারে লঙ্কানরা। এমন টানটান উত্তেজনার দিনে বাংলাদেশের হয়ে বাজিমাত করলেন এক স্পিনার—নাঈম হাসান।
শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে চতুর্থ দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ৩৬৮ রান ছিল স্কোরবোর্ডে। সেখান থেকে ১১৫ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ৪৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। এই ধস নামানোর পেছনে মূল ভূমিকায় ছিলেন নাঈম। স্পিন আক্রমণে ৪২ ওভার বল করে ১২১ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরান বাংলাদেশকে।
সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রভাব বিস্তার করেন নাঈম—তবে এবার বল হাতে নয়, আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের সামনে জেতার সুযোগ আছে। যদি ভালো সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারি, তাহলে পঞ্চম দিনে বল হাতে চেষ্টা চালানো যাবে।’
শ্রীলঙ্কার ইনিংসে শেষ চার উইকেট এত দ্রুত তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি ভালো জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করতে। পেসে ভ্যারিয়েশন এনেছি, সিমের অবস্থান বদলে দেখেছি কোনটা কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাটারের বিরুদ্ধে আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে বল করেছি।’
দেশের বাইরে এই প্রথম টেস্টে পাঁচ উইকেট পেলেন নাঈম। অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট ছিল, এরপর দেশের মাটিতে আরও একটি। এবার গল টেস্টে নিজের প্রথম বিদেশের ‘ফাইফার’ নিয়ে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো লাগছে। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে এমন সুযোগ দিয়েছেন, আমি সেটা কাজে লাগাতে পেরেছি।’
জাতীয় দলে নিয়মিত নন, সীমিত ওভারের ফরম্যাটে তো এখনও সুযোগই মেলেনি। তবু নিজেকে ‘আনলাকি’ ভাবেন না নাঈম। বরং ভাগ্য মেনেই এগিয়ে চলেন। বলেন, ‘আনলাকির কিছু নেই। যা আল্লাহ রিজিকে রেখেছেন, তাই হবে। সবার ক্যারিয়ার এক রকম হয় না। আমার যেটা হচ্ছে, সেটাও আলহামদুলিল্লাহ।’
শেষ দিনে দলের লক্ষ্য সম্পর্কে নাঈমের কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট পরিকল্পনার ছাপ: ‘উইকেট এখনও ভালো। তবে পঞ্চম দিনের উইকেট সম্পর্কে তো আমরা সবাই জানি, সেখানে ভাঙন তৈরি হয়। সেটার সুবিধা নিতে চাই। যত বড় সংগ্রহ গড়া যাবে, প্রতিপক্ষ তত চাপের মধ্যে থাকবে।’
চতুর্থ দিন সকালে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন নাঈম হাসান। এখন তাকেই ঘিরে টাইগারদের শেষ দিনের স্বপ্ন—যে স্বপ্নে গলে জয়ও দেখা দিতে পারে বাংলাদেশের।
রোনালদোকে বন্ধু ভাবেন না মেসি, তবে করেন শ্রদ্ধা
আগস্টেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন জায়ান হাকিম!