মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ৬.৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থ পাচার মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন দেশটির আদালত। গতকাল শুক্রবার দেশটির হাইকোর্টের বিচারক কে. মুনিয়ান্ডি এ রায় দেন। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি মিললেও আদালত তাকে খালাস দেয়নি। নাজিবের আইনজীবী মুহাম্মাদ শাফি এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাজিব রাজাক ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আগপর্যন্ত ৯ বছর ধরে দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালে ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) এক সময়কার শাখা এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে তহবিল আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০২২ সালের আগস্ট থেকেই কারাগারে আছেন নাজিব। এই ওয়ানএমডিবি তহবিল থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে মোট প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার সরানো হয়েছে বলে ভাষ্য মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্র্তৃপক্ষের।
হাইকোর্টের বিচারক কে. মুনিয়ান্ডি নাজিবের ‘ডিসচার্জ নট অ্যামাউন্টিং টু অ্যান অ্যাকুইটাল’ (ডিএনএএ) আবেদনের অনুমোদন দেন। প্রতিরক্ষা আইনজীবী শাফি আবদুল্লাহ যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে নিশ্চিত বিচার তারিখ ছাড়াই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আইনি অনিশ্চয়তায় রাখা অন্যায্য। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী মুহাম্মাদ শাফি বলেন, প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে ২০১৯ সাল থেকে মামলাটি বারবার আটকে গিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট নাজিবের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাকে খালাস না দিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
নাজিবকে প্রাথমিকভাবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি ২০১৪ সালের ৮ জুলাই তিনটি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অবৈধ কার্যকলাপ থেকে ২৭ মিলিয়ন রিংগিত (৬.৩ মিলিয়ন ডলার) পেয়েছিলেন। গত সপ্তাহে, আদালত শুনেছে যে প্রসিকিউশন গত ছয় বছর ধরে বারবার মামলার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নথি প্রতিরক্ষা পক্ষের কাছে সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতের এ সিদ্ধান্তকে ‘ন্যায্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে শাফি আরও বলেন, সরকারি কৌঁসুলিরা চাইলে প্রস্তুতি নিয়ে নাজিবের বিরুদ্ধে আবার অভিযোগ আনতে পারবেন।