দুর্নীতির ব্যাপারে জাতীয়ভাবে ঐকমত্য দেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, কেউই চান না দুর্নীতি বন্ধ হোক। গতকাল শনিবার ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতি আয়োজিত বাজেট-সংক্রান্ত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফাওজুল কবির এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ। দেশের অর্থনীতিবিদরা এ আলোচনায় অংশ নেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির বলেন, ‘অন্দরমহলের খবর দিতে চাই। একটা জিনিসের ব্যাপারে আমি জাতীয় ঐকমত্য দেখতে পেয়েছি। সেটা হচ্ছে, দুর্নীতির বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য। সবাই দুর্নীতি করতে চান। কেউ কিন্তু বাদ নেই। রাজনীতিবিদ, আমলা, অধ্যাপক, কেউ বাদ নেই।’ তিনি বলেন, ‘এই যে আমরা যে অফিসে আসি। আমার সঙ্গে এখন তো রাজনীতিবিদরাও দেখা করেন। কিন্তু কেউই কিন্তু চান না যে দুর্নীতির অবসান হোক। সবাই চান যে দুর্নীতি চলুক, তবে দুর্নীতিটা এবার আমাকে করার সুযোগ দিতে হবে। সবাই বলেন, দেখেন, ফ্যাসিস্ট আমলে তো ব্যবসা করতে পারিনি, এখন একটু খেয়াল রাখবেন। তো আমরা সে পথে যাচ্ছি না।’
তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেতু বিভাগের এক সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘সেতু বিভাগের ওনারা করেছেন কী, যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের পুনর্বাসনের জন্য কতগুলো ভবন করেছেন। তো ভবন করতে গিয়ে ওনারা আবিষ্কার করলেন যে কিছু জায়গা বেঁচে গেছে। তো এখন কী করতে হবে? তো এটা সব সরকারি কর্মকর্তাদের দিতে হবে। অথচ সেতু বিভাগের ভবন বানানো কিংবা আবাসনের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়ই আছে। যেটাকে আমরা পূর্ত মন্ত্রণালয় বলে থাকি। এখানে অকল্পনীয় ছিল যে ক্যাবিনেট সচিবরা পর্যন্ত অন্যায়-উপঢৌকন গ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ অন্যায়-উপঢৌকন গ্রহণ করেছেন।’
দুর্নীতির বিপরীতে সরকারের চেষ্টার বিষয়ে ফাওজুল কবির বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যে অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা। যেই ব্যবসা পাবেন, প্রতিযোগিতা হবে সেখানে। আমরা সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছি।’
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বাজেটটি একটি রাজনৈতিক শূন্যতার বাজেট। যেখানে একই সঙ্গে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং লুণ্ঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার বিগত রাজনৈতিক সরকারগুলোর দুর্নীতির চক্রের পরিধি ভেঙে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি ও ব্যক্তিগত দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। তারা চান তাদের তৈরি টেমপ্লেটটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সরকার অনুসরণ করবে।
এ উপদেষ্টা তার অধীন মন্ত্রণালয়গুলোর সাম্প্রতিক কিছু অর্জন, চলমান কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ নদীপথ সংস্কার, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও গ্রাহকপর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য।