জাপানে ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় পরীক্ষা

টোকিও মেট্রোপলিটন অ্যাসেম্বলির জন্য ভোটগ্রহণ হয়েছে গতকাল রবিবার। এই নির্বাচন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি জনসাধারণের মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই নির্বাচন শুধু স্থানীয় আইনসভার ভারসাম্য নির্ধারণ করবে না, বরং জাতীয় রাজনীতিতে এলডিপির ভবিষ্যৎ অবস্থানের জন্যও একটি সংকেত বহন করবে।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং চালের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক বছরে জাপানের অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা এবং ইয়েনের মূল্যহ্রাসের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষত, চালের দাম গত এক বছরে প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জাপানের গড় পরিবারের জন্য একটি বড় আর্থিক বোঝা। এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে এলডিপি টোকিওর ১২৭ আসনের আইনসভায় তাদের বৃহত্তম দলের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী ইশিবা এ মাসের শুরুতে প্রচারণা শুরু করার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবাইকে নির্বাচিত করার জন্য আমরা সবকিছু করব।’ তিনি দাবি করেন, এলডিপি টোকিওর প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ বাসিন্দার মুখোমুখি স্থানীয় সমস্যা যেমন আবাসন সংকট, গণপরিবহনের উন্নয়ন এবং জনসংখ্যা হ্রাস সমাধানে সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে, সমালোচকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতির ব্যর্থতা স্থানীয় ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে, যা এলডিপির জন্য বড় ধরনের প্রতিকূলতা সৃষ্টি করতে পারে।

টোকিওর অ্যাসেম্বলি নির্বাচন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, কারণ এটি জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ (হাউজ অব কাউন্সিলরস) নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষের নির্বাচন ২০ জুলাই হতে পারে। গত অক্টোবরে নিম্নকক্ষ (হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস) নির্বাচনে এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, যদিও তাদের জোট সরকার কোনো মতে ক্ষমতায় টিকে আছে। এই প্রেক্ষাপটে, টোকিওর নির্বাচন এলডিপি এবং তাদের জোট শরিক কোমেইতোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, টোকিওতে দলের ফলাফল খারাপ হলে এলডিপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি উঠতে পারে। ইশিবা গত অক্টোবরে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তার প্রতি জনসমর্থন ক্রমাগত কমেছে।

গতকালের এই নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ২৯৫ জন প্রার্থী ১২৭টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এটি ১৯৯৭ সালের পর সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণ। এর মধ্যে ৯৯ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন, যা টোকিও অ্যাসেম্বলি নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নির্বাচন কর্মকর্তারা এটিকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক প্রবণতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে, জাপানে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৫ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল লিঙ্গবৈষম্য সূচকে ১৪৮টি দেশের মধ্যে জাপান ১১৮তম স্থানে রয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় লিঙ্গবৈষম্যের গভীরতা নির্দেশ করে।