পরস্পর সাক্ষাৎকালের আদব

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলাম মানুষকে শিখিয়েছে পরস্পর সাক্ষাতে কী করণীয় ও বর্জনীয়। নিম্নে পরস্পর সাক্ষাতের কতিপয় আদব তুলে ধরা হলো।

কথার আগে সালাম : হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, কথা বলার আগেই সালাম বিনিময় হবে। (জামে তিরমিজি ২৬৯৯)

হাসিমুখে কথা বলা : হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুল (সা.) আমাকে বললেন, তুমি কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করো না। হোক সেটা তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা। (রিয়াজুস সালেহিন ৭০০)

মুসাফাহা করা : হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটা লোক বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্য থেকে কোনো লোক তার ভাইয়ের সঙ্গে কিংবা তার বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তার সামনে কি মাথা নত করবে? তিনি বললেন, না। সে বলল, তাহলে কি তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দেবে? তিনি বললেন, না। সে বলল, তাহলে কি তার হাত ধরে তার সঙ্গে মুসাফাহা করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (রিয়াজুস সালেহিন ৮৯৩)

মুসাফাহার প্রচলন : হজরত আবুল খাত্তাব কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম রাসুল (সা.)-এর সাহাবিদের মধ্যে কি মুসাফাহা (করমর্দন) করার প্রথা ছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (রিয়াজুস সালেহিন ৮৯০)

মুসাফাহার ফায়দা : হজরত বারা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, দুজন মুসলিম সাক্ষাৎকালে মুসাফাহা করলে একে অপর থেকে পৃথক হওয়ার পূর্বেই তাদের (গুনাহ) মাফ করে দেওয়া হয়। (রিয়াজুস সলেহিন ৮৯২)