চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জোহরপুর সীমান্তে গরু চোরাকারবারি ধরতে গিয়ে ‘দলছুট’ হয়ে ভারতে ঢুকে পড়া এক বিজিবি সদস্যকে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। শুক্রবার রাতে ‘দলছুট’ হওয়া বিজিবি সদস্য মতিউর রহমানকে শনিবার রাতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের পর ফেরত দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইমরান ইবনে রউফ। অন্যদিকে ভারতে আটক করার পর সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৈখালী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি একটি পরিবারের চার সদস্যকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ছাড়া সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ১৪ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের জোহরপুর সীমান্ত ফাঁড়ির একটি দল গরু চোরাকারবারিদের ধরতে অভিযান চালায়। এ সময় চোরাকারবারিদের ধাওয়া করতে গিয়ে ভারত ভূখ-ে ঢুকে পড়েন মতিউর রহমান। সীমান্তসংলগ্ন কাশবনে পথ হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে আর ফিরে আসতে পারেননি জোহরপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে সিপাহী পদে কর্মরত মতিউর ।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, চোরাকারবারিদের ধরতে গিয়ে ‘দলছুট’ হয়ে ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়া বিজিবির একজন সদস্য একটি বিএসএফ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন বলে শুনেছি।
বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার বলেন, ‘বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিএসএফকে জানানো হলে শনিবার রাতে বিজিবি-বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে রাত ১০টার দিকে ফেরত দেওয়া হয় তাকে। ভারতে ঢুকে পড়া মতিউর রহমানকে ফেরত দেওয়ার আগে বিএসএফের বাজিতপুর ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল।’
সাতক্ষীরা : শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির মোল্যা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী সীমান্তের কালিন্দী নদীর শূন্যরেখা এলাকায় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত দেওয়া হয়। ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হলেনসাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার গদাইপুর গ্রামের আব্দুস সালাম সরদারের ছেলে মো. নুর আলম (৩৬), তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন (২৬) এবং তাদের দুই মেয়ে লাবিবা (৬) ও লামিয়া (১৬ মাস)।
ফেরত আসা নুর আলম জানান, আড়াই বছর আগে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের কেরালা শহরে যান তারা। চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদি হওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে সেখানেই ছিলেন। এ সময় তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা সেখানে অবৈধ হয়ে যান। পরে তারা অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় বিএসএফ তাদের আটক করে।
ওসি মো. হুমায়ুন কবির মোল্যা জানান, নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ১৪ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় বিএসএফ। সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির মিডিয়া কর্মকর্তা মিলন হোসেন জানান, শনিবার কুশখালী সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ বাংলাদেশিদের হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ভারতীয় আমুদিয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার বিকাশ কুমার এবং বাংলাদেশের কুশখালী বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাছিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
১৪ বাংলাদেশি দেশের বিভিন্ন জেলার নাগরিক। তারা অবৈধভাবে ভারতে ছিলেন। বিএসএফ তাদের আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের সাতক্ষীরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৪ বাংলাদেশি হলেন, ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার মাদ্রাসা গলির বাবু মিয়ার কন্যা মারিয়া আক্তার, সেলিম মিয়ার কন্যা নুসরাত জাহান, সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার নগরঘাটা গ্রামের বিমল কৃষ্ণ ম-লের কন্যা রানী ম-ল, দেবাশীষ ম-লের কন্যা রিয়া ম-লসহ আরও অনেকে।
সাতক্ষীরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিনুল জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ১৪ বাংলাদেশিকে গ্রহণ করে বিজিবি থানায় জমা দিয়েছে। এসব নাগরিককে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।