হামলার আগেই উধাও ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম!

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার আগেই ইরান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাসংক্রান্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছিল—প্রায় ৪০০ কেজির মতো উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছে তেহরান। এ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই ইউরেনিয়াম দিয়ে একাধিক পারমাণবিক বোমা তৈরি করার মতো সামর্থ্য ইতোমধ্যেই অর্জন করেছে ইরান।

গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ এক সূত্র বলেন, ‘খেলা এখনও শেষ হয়নি।’ বক্তব্যটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। ইঙ্গিত মিলছে, ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে একচুলও সরে আসেনি।

স্যাটেলাইট ইমেজ এবং মাঠপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের কয়েক দিন আগেই ইরান গোপনে ইউরেনিয়াম ও পরমাণু সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলে। ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে সরানো এই পদার্থ ও যন্ত্রাংশ কোথায় রাখা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই ইউরেনিয়াম কোথায় আছে—তা তাদের অজানা। অনেকে মনে করছেন, এটি কোনো গোপন ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে, সম্ভবত ইসফাহানের নিকটবর্তী কোনো এলাকায়। এ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সরানোর কোনো প্রমাণ নেই, বরং তাঁর বিশ্বাস, এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া বোমায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা মনে করছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় কিছুদিন আগেই মূল অংশ সরিয়ে ফেলেছিল। ট্রাকের মাধ্যমে ছোট ছোট বাক্সে করে সেগুলো গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় আগেই ইরান সতর্ক করেছিল, তারা আর কোনো আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ থাকবে না। তেহরানের অবস্থান ছিল পরিষ্কার—পরমাণু কর্মসূচি তারা গড়েছে কেবল শান্তিপূর্ণ, বেসামরিক উদ্দেশ্যে। তাই সেটিকে হুমকির মুখে ফেললে তারা আত্মরক্ষার পথেই হাঁটবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পরে ইরান নিজেই জানায়, তাদের কর্মসূচি থেমে নেই। বরং প্রয়োজনীয় জোগান এবং অবকাঠামো রক্ষায় তারা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছি। হামলায় কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—তাদের পারমাণবিক পরিকল্পনা থেমে নেই, বরং ধাক্কা সামলে আরও শক্ত ভিতের দিকে এগোচ্ছে। খেলা এখনো চলছে, আর সমাপ্তি কবে আসবে, তা নির্ভর করছে বিশ্বশক্তিগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।