সোহানকে ওয়ানডে দলে না দেখে বিস্মিত নান্নু, সন্তুষ্ট নন নির্বাচকদের ব্যাখ্যায়

ওয়ানডে দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন নুরুল হাসান সোহান। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, ‘এ’ দল আর প্রস্তুতি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করার পরও কেন জায়গা হলো না তাঁর? নির্বাচকরা জানিয়েছেন ‘টিম কম্বিনেশন’-এর কথা, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রোগ্রাম প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু তাতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। বরং চট্টগ্রামে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবেই জানালেন—'ঘাটতি তো আছেই।'

'এই প্রশ্নের উত্তর নির্বাচক প্যানেল দিয়েছে,' বলেই শুরু করেন নান্নু। 'তবে কিছু ঘাটতি তো থাকেই। সোহানকে না নেওয়াটা আমাকে অবাক করেছে। কারণ, সে ‘এ’ দলের সিরিজে ভালো খেলেছে, প্রস্তুতি ম্যাচেও ভালো করেছে। এই একটা বাদ পড়া জায়গা থেকেই প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচকরা অবশ্য তাদের যুক্তি দিয়েছে। আমরা খেলাটা চালিয়ে যেতে চাই।'

সোমবারের প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে ৯৭ রান করেছিলেন সোহান। আর আগেই চলমান মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করেছেন তিনি। এত কিছুর পরও দলে জায়গা না পাওয়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, একাধিক উইকেটরক্ষক না রাখার কৌশল নিয়েছেন নির্বাচকরা। তবে তা মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই, নান্নু নিজেও কৌশলে সেই অসন্তোষের সুরই তুলে ধরলেন।

সোহান নিজেও নিজের না থাকাটা নিয়ে কথা বলেছেন, 'আমি যদি জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারতাম, তাহলে আমার ক্যারিয়ার একদম ভিন্ন জায়গায় যেত। অবশ্যই আফসোস হয়। হয়তো আমি নিজেই সুযোগটা পুরোটা কাজে লাগাতে পারিনি।'

আরও বলেন, 'জাতীয় দলে খেলা গর্বের ব্যাপার। আমি খেলতে চাই জাতীয় দলে। যেদিন এই স্বপ্নটা থাকবে না, সেদিনই হয়তো ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দেব।'

শুধু সোহান নয়, আরও একজন পারফর্মারকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নান্নু—মোসাদ্দেক হোসেন। সদ্য সমাপ্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অন্যতম সেরা পারফর্মারদের একজন ছিলেন এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার।

নান্নু বলেন, 'সম্ভবত নির্বাচকরা ভেবেছেন, মিরাজ থাকায় বাড়তি অফস্পিনার দরকার নেই। তবে কেউ যে কোনো সময় চোট পেতেই পারে—মোসাদ্দেক তখন বিকল্প হতে পারে।'

তবে সব কথার শেষে নির্বাচকদের স্বাধীনতা ও দায়িত্বের জায়গাটিও স্পষ্ট করেছেন নান্নু, 'যারা সুযোগ পায়নি, তারা পাইপলাইনে রয়েছে। তাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সুযোগ আসলে যেন তৈরি থাকে।'

তবে সামগ্রিকভাবে ওডিআই দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেটাঙ্গনে। ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন—এই তিন ক্ষেত্রেই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত। এখন দেখার, মাঠে ফলাফল দিয়েই কি সেই বিতর্কের জবাব দিতে পারবে বাংলাদেশ দল?