উলসান এইচডির বিপক্ষে এক রুদ্ধশ্বাস ১-০ গোলের জয়ে গ্রুপ ‘এফ’ এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড । সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০১৮ সালের পর এই প্রথম টানা চারটি ম্যাচে হারের মুখ দেখল দক্ষিণ কোরিয়ার ক্লাবটি। গ্রুপের শেষ ম্যাচটির আগে ডর্টমুন্ড কোচ নিকো কোভাচ জানতেন, এই ম্যাচে হার এড়াতে পারলেই নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত। ফলে সিনসিনাটির প্রখর রোদের নিচে প্রত্যাশিতভাবেই বল দখলে আধিপত্য বজায় রাখে ডর্টমুন্ড।
প্রথমার্ধে উলসানের গোলরক্ষক জো হিয়ন-উকে চাপে ফেলেন সারহু গুইরাসি। এক হাত বাড়িয়ে দুর্দান্ত সেভ করে উলসানকে রক্ষা করেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই গোলের সুযোগ পান জোবি বেলিংহ্যাম। কিন্তু সান্ডারল্যান্ডের সাবেক এ মিডফিল্ডার ডান পায়ের ভলিতে বল পাঠান গোলবারের উপর দিয়ে। বেলিংহ্যাম এরপরও আক্রমণে সরব ছিলেন। একবার একটি শট ব্লক হয়, আরেকবার তিনি গোলমুখে বল ঠেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন।
অবশেষে ৩৬তম মিনিটে আসে কাঙ্খিত ব্রেকথ্রু। বেলিংহ্যামের পাস থেকে ড্যানিয়েল সোভেনসন এক স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অসাধারণ ফিনিশে বল পাঠান জো হিয়ন-উর জালের ঠিকানা খুঁজে। এর পর প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতো ডর্টমুন্ড। হতে দেননি জো। বাম পা দিয়ে প্যাসকেল গ্রোসের শট ঠেকিয়ে দেন। এরপর গুইরাসির হেডও দুর্দান্ত ভাবে সেভ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই উলসান প্রথম শট নিতে সক্ষম হয়। কাং সাং-উর শটে ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে হালকা পরীক্ষা দিতে হয়। লি জিন-হিউনের টাইট অ্যাঙ্গেল থেকে নেওয়া শটে কোবেল আবারও সতর্ক থাকতে বাধ্য হন। আরেকটি সুযোগ নষ্ট করে ডর্টমুন্ড। রামি বেনসেবাইনি সোভেনসনের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল পাঠান গোলবারের উপর দিয়ে। ম্যাচের শেষ দিকে ডর্টমুন্ড ব্যবধান দ্বিগুণ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, কিন্তু জো হিয়ন-উ যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান। এবার থামান ইয়ান কৌতোকে।
গোটা ম্যাচে জো হিয়ন-উর পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। নিঃসন্দেহে এই টুর্নামেন্টের সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সগুলোর একটি হিসেবে ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবুও তিন পয়েন্ট যায় ডর্টমুন্ডের ঝুলিতে। মামেলোদি সানডাউনসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোলোয় উঠেছে ব্রাজিলীয় ক্লাব ফ্লুমিনেন্স।