দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে এ মাসের গত ২৬ দিনে মারা গেল ১৫ জন, যা গত মে মাসের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। সে মাসে মারা যান তিনজন। এ মাসে মৃত্যুর এই সংখ্যা বছরের সর্বোচ্চ ও মোট মৃত্যুর ৩৯ শতাংশ।
এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৩৮ জন। তাদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে জানুয়ারিতে ১০ জনের। এরপর এপ্রিলে সাতজন এবং ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে তিনজন করে মারা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গুতে যে দুজন মারা গেছে, তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ভর্তি ছিল। তাদের একজন ১৪ বছর বয়সী ছেলে শিশু মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অন্যজন ৪৬-৫০ বছর বয়সী নারী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
এ বছর ডেঙ্গুতে বেশি মারা গেছে রাজধানীতে ২২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশ ও বরগুণায় ছয়জন বা ১৬ শতাংশ। এ ছাড়া বরিশাল জেলায় তিনজন, চট্টগ্রামে দুজন এবং ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, খুলনা, মেহেরপুর ও রাজশাহীতে একজন করে মারা গেছে। এ বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর ৫৩ শতাংশ বা ২০ জন পুরুষ ও ৪৭ শতাংশ বা ১৮ জন নারী।
অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ বা ৭৪ জনই বরিশাল বিভাগের। এরপর ঢাকা বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহীতে ১৮ জন, চট্টগ্রামে আটজন, সিলেটে তিনজন ও ময়মনসিংহে দুজন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩২ জন রোগী পাওয়া গেছে।
দিনের মোট রোগীর ৫৪ শতাংশই ছিল দুই জেলার। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ বা ৫৫ জন ছিল রাজধানীসহ ঢাকা জেলার ও ২১ শতাংশ বা ৪১ জন বরগুনার। এরপর বরিশাল জেলায় ১৬ জন বা ৮ শতাংশ রোগী ভর্তি হয়। এ ছাড়া চাপাইনবাবগঞ্জে ১০ জন, টাঙ্গাইল ও পটুয়াখালীতে নয়জন, পিরোজপুরে ছয়জন, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে পাঁচজন করে, গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জে চারজন করে, কক্সবাজার ও সিলেটে তিনজন করে, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা ও ভোলায় দুজন করে, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নাটোরে একজন করে রোগী ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে ঢাকায় ২৯৮ জন, বাকি ৭৩৪ জন অন্য বিভাগে।
এ মাসে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৭২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সংখ্যা বছরের সর্বোচ্চ ও মোট রোগীর ৫২ শতাংশ। বাকিদের মধ্যে জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন ও মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।