ফ্রান্সের সমুদ্রসৈকত-পার্ক বাসে ধূমপানে না

ফ্রান্সে সমুদ্রসৈকত, পার্ক, জনসমাগমপূর্ণ স্থান ও বাস স্টপেজে ধূমপান নিষিদ্ধ হচ্ছে। গত শনিবার ফরাসি সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল রবিবার থেকে এ আইন কার্যকর হয়েছে। ফরাসি সরকার বলছে, শিশুদের পরোক্ষ ধূমপান থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নির্দেশ অনুযায়ী, গ্রন্থাগার, সুইমিংপুল ও স্কুলের বাইরে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হবে। তবে এই নির্দেশে ইলেকট্রনিক সিগারেটের (ই-সিগারেট) বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। আইন ভঙ্গকারীদের ১৩৫ ইউরো (প্রায় ২০ হাজার টাকা) জরিমানা দিতে হবে। তবে পানশালা ও রেস্তোরাঁর বাইরে বসার জায়গায় এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এ সিদ্ধান্তের কারণে তামাকবিরোধী কিছু কর্মী হতাশা প্রকাশ করেছেন। ই-সিগারেটকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না রাখার কারণেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।

ফরাসি স্বাস্থ্য ও পরিবারমন্ত্রী ক্যাথরিন ভোঁথাঁ গত মে মাসে বলেছিলেন, যেসব স্থানে শিশুরা থাকে, সেখান থেকে তামাক দূর করতে হবে। তিনি শিশুদের বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেওয়ার অধিকারের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে, ক্যাফে টেরেসগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ভবিষ্যতে এসব এলাকার জন্য ধূমপানের ন্যূনতম দূরত্ব নির্ধারণ করা হবে এবং স্থান চিহ্নিত করতে যে চিহ্ন ব্যবহার হবে, তা-ও জানানো হবে। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারীরা ১৩৫ ইউরো (১৬০ ডলার) থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারেন। তবে শুরুতে কিছুটা শিথিলতা থাকবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সে পরোক্ষ ধূমপানে প্রতিবছর তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আর প্রত্যক্ষ ধূমপানে মৃত্যু হয় ৭৫ হাজার মানুষের। এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করার পক্ষে।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ২০০৮ সাল থেকে রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাবের মতো বদ্ধ জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ রয়েছে। নতুন এই আইনটি ফ্রান্সে একটি ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম তৈরির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য ২০৩২ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।