মাধ্যমিকের প্রতিটি শ্রেণিতেই শিক্ষার্থীদের ভাব-সম্প্রসারণ পড়তে হয়, পরীক্ষায় লিখতে হয়। পরীক্ষার অকূল সায়র পার হতে তারা কিছু ভাব-সম্প্রসারণ মুখস্থ করে। ফলে ভাব-সম্প্রসারণ লেখার কৌশল থাকে তাদের অজানা। ভাব-সম্প্রসারণ লেখার কৌশল জানাচ্ছেন বিপুল জামান
ভাব-সম্প্রসারণ
‘ভাব-সম্প্রসারণ’ কথাটির অর্থ হলো, কোনো লেখা বা কথার মূলভাব বা গূঢ় অর্থকে সবিস্তারে বলা, লেখা বা প্রকাশ করা। সাধারণত কোনো কবিতা বা গদ্যের অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করা, বিস্তারিত লেখা, বিশ্লেষণ করাকে ভাব-সম্প্রসারণ বলা হয়। অনেক ছোট কথার মধ্যে বড় কথার ভাব লুকিয়ে থাকে। বিশেষ করে কবি-সাহিত্যিকদের গদ্য ও কবিতায় এমন কিছু তাৎপর্যময় গভীর উক্তি থাকে, যা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের দাবি রাখে। বাক্যের ভেতরের এই ইঙ্গিতময় সূক্ষ্মভাব ও মর্মকথা সহজ-সরল ভাষায় বিস্তৃত আকারে প্রকাশ করার নামই ভাব-সম্প্রসারণ। সাধারণত কবিতা বা গদ্যের দু-একটি গভীর অর্থবোধক বাক্য বা পঙ্্ক্তি ভাব-সম্প্রসারণের জন্য দেওয়া হয়। ভাব-সম্প্রসারণ এর সময় সেই গভীর ভাবটুকু উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় যুক্তি, বিশ্লেষণ, উপমা, উদাহরণ প্রভৃতির সাহায্যে সম্প্রসারণ করতে হবে। ভাব-সম্প্রসারণের জন্য প্রদত্ত কবিতা বা গদ্য অংশটি যেহেতু খুবই সংক্ষিপ্ত হয় তাই সতর্কতার সঙ্গে সেই মূল ভাবটিকে খুঁজে বের করে তাকে সম্প্রসারণ বা ব্যাখ্যা করতে হবে।
ভাব-সম্প্রসারণ লেখার নিয়ম
সহজ-সরলভাবে উপস্থাপন : ভাব-সম্প্রসারণ কথাটির অর্থ যেহেতু ভাবের সম্প্রসারণ বা বৃদ্ধি, তাই প্রয়োজনীয় উপমা বা দৃষ্টান্ত এবং যুক্তি দিয়ে বক্তব্য বিষয়কে সহজ-সরলভাবে উপস্থাপন করতে হবে। প্রাসঙ্গিক হলে ঐতিহাসিক পৌরাণিক বা বৈজ্ঞানিক তথ্য উল্লেখ করা যেতে পারে।
পুনরাবৃত্তি যেন না হয় : ভাব-সম্প্রসারণ লেখার সময় ভাবের-সম্প্রসারণ বৃদ্ধি করতে হয় বলে বাহুল্য বর্জন করতে হবে অর্থাৎ অপরিহার্য কথা কিংবা একই কথার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। সম্প্রসারিত লেখার আয়তন হবে শ্রেণি ও প্রদত্ত নম্বরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
প্রদত্ত অংশ বারবার পড়ো : প্রদত্ত চরণ বা গদ্যাংশটি একাধিকবার মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। লক্ষ্য হবে প্রচ্ছন্ন বা অন্তর্নিহিত ভাবটি কী, তা সহজে অনুধাবন করা।
প্রতীক-উপমা লক্ষ্য করো : অন্তর্নিহিত মূল ভাবটি কোনো উপমা, রূপক প্রতীকের আড়ালে নিহিত আছে কি না, তা বিশেষভাবে লক্ষ করতে হবে। মূল ভাবটি যদি রূপক, প্রতীকের আড়ালে প্রচ্ছন্ন থাকে, তবে ভাব-সম্প্রসারণের সময় প্রয়োজনে অতিরিক্ত অনুচ্ছেদযোগে ব্যাখ্যা করলে ভালো হয়।
যুক্তি উপস্থাপন করো : সহজ ভাষায়, সংক্ষেপে ভাবসত্যটি উপস্থাপন করা উচিত। প্রয়োজনে যুক্তি উপস্থাপন করে তাৎপর্যটি ব্যাখ্যা করতে হবে।
প্রসঙ্গ ঠিক থাকতে হবে : ভাব-সম্প্রসারণ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন মূল ভাবটি থেকে সম্প্রসারিত ভাব কোনো রকমে প্রসঙ্গচ্যুত না হয়।