রাজধানীর ফকিরাপুলে গোয়েন্দা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় দুই সহযোগীসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পিকে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল। অন্য দুই সহযোগী হলেন আবু খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে বোমা রিপন ও মো. কামরুল হাসান।
গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে যশোর জেলার ঘোপ নওয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিবি পুলিশের ওপর গুলির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) নাসিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘গত ১৮ জুন রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল থানার ফকিরাপুল এলাকার ডিআইটি এক্সটেনশন রোডে অভিযান চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আবদুর রহমান নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে ১৯ জুন রাত সোয়া ১২টার দিকে মাদকসহ আটক আবদুর রহমানের দেওয়া তথ্যে পল্টনের দিক থেকে আসা সিলভার রঙের প্রাইভেট কার ডিবি পুলিশ সদস্যরা থামার আহ্বান জানান। গাড়িতে অবস্থানরত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ফলে গাড়ির ভেতর থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি হঠাৎ ডিবি পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে পালিয়ে যেতে থাকেন।’
এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন বাপ্পি। চেয়েছিলেন যশোর সীমান্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে। তবে ডিবির অভিযানে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হন বাপ্পি। এমনটা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ার আগে যশোরে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এই সময়ে বাসায় থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাস ছেড়ে দিয়ে পুলিশকে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকেন বাপ্পি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় একাধিক সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথক অভিযানে তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৬টি ম্যাগজিন ও দেড় শতাধিক গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর বাপ্পির দেওয়া তথ্য মতে ডিবি পুলিশের সদস্যরা গত শনিবার রাজধানীর ডেমরায় বাপ্পির বাসায় অভিযান চালান। অভিযানে তার লুকানো দুটি বিদেশি পিস্তল, ৪টি গুলি ভর্তি ম্যাগজিনসহ সর্বমোট ১৫১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে ডিবি। এ বিষয়ে যুগ্ম কমিশনার নাসির আরও বলেন, ‘বাপ্পির গ্রুপের সদস্য ২৫ জন। ২০১০ সাল থেকে বাপ্পি মাদক বিক্রি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তার গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে বাপ্পি গোয়েন্দা পুলিশকে বেশ কিছু ব্যক্তির নাম জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি। মাদক অস্ত্রের রুট সম্পর্কেও আমরা কাজ করছি।’