বন্দুকযুদ্ধে ছাত্রদল নেতা হত্যা

সাবের চৌধুরীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

১০ বছর আগে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের জোরপুকুরপাড় এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনির মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগ করা হয়েছে। নিহতের বাবা মো. ইয়াকুব আলী গতকাল রবিবার চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ অভিযোগ করেন। এতে আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ৬২ জনকে অভিযুক্ত করেছেন জনির বাবা।

অভিযোগে ইয়াকুব মিয়া উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আমার বড় ছেলে নুরুজ্জামান জনি ও তার সহপাঠী মঈনকে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ করে গুম করে রাখে ও অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালায়। প্রায় দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজি করার পরেও জনির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ২০ জানুয়ারি রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন জোড়াপুকুরপাড় এলাকায় খেলার মাঠে জনিকে নির্যাতনের ফলে তার কান্না ও চিৎকার আশপাশের মানুষ শুনতে পায়। ইয়াকুব আলী বলেন, ওই দিন ভোরে আমিসহ প্রতিবেশী কয়েকজন জোড়পুকুরপাড় এলাকায় মাঠের দিকে গেলে তিনি জানতে পারেন জনি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তার মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ইয়াকুব আলী হাসপাতালে গিয়ে দেখেন জনির বুকের বাম পাশে, ডান দিকে, দুই হাতের তালু ও কবজিতে ১৬টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। সমস্ত শরীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ওই সময় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং মামলা করলে প্রয়োজনে তাদেরও ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। তিনি উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দ্বারা ঘটনার তদন্ত করে ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা নিতে আরজি জানান।