পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচিং স্টাফে যেন চলছে ‘মিউজিক্যাল চেয়ারের’ খেলা। একের পর এক পরিবর্তনে স্থিরতা তো দূরের কথা, বরং দিন দিন আরও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে গোটা ব্যবস্থাপনা। সর্বশেষ পরিবর্তনে, টেস্ট দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অলরাউন্ডার আজহার মাহমুদ।
আগামী ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। পেছনে ফেললেন আকিব জাভেদকে, যিনি আবার নিজেই অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ছিলেন জেসন গিলেস্পির বিদায়ের পর। তবে আকিবের বিদায়টা ছিল নানা বিতর্কে ঘেরা।
জেসন গিলেস্পি দায়িত্ব ছাড়েন পিসিবি ও আকিব জাভেদের সঙ্গে মতবিরোধে। তার পরে আকিব দায়িত্ব নিলেও মাঠে কার্যত কোনো উন্নতি হয়নি। দলের পারফরম্যান্সে ছিল স্থবিরতা, আর কোচিংয়ে ছিল নেতৃত্বহীনতা। এরপরই বোর্ডের নজর পড়ে টিম ম্যানেজমেন্টের দীর্ঘদিনের সদস্য আজহার মাহমুদের দিকে।
দুইবার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী আজহার মাহমুদ বোর্ডের চোখে একটি "অভিজ্ঞ, স্থিতধী ও কৌশলী" ক্রিকেট মস্তিষ্ক। পিসিবির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অভিজ্ঞতার ঝুলি আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা আজহারকে এই ভূমিকায় নিঃসন্দেহে যোগ্য করে তুলেছে। টেস্ট ক্রিকেটে তার পাণ্ডিত্য এবং মাঠের বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা পাকিস্তানের রেড বল স্কোয়াডকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেবে বলেই আমরা আশাবাদী।’
আজহারের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজ ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, প্রথম তিনটি ডব্লিউটিসি আসরেই পাকিস্তান ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। শেষ চক্রে তো তারা ছিল পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে। স্বাগতিক হিসেবে ইংল্যান্ডকে হারালেও বাংলাদেশের কাছে হেরে বসে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও ব্যর্থ হয়েছিল বাবর আজমের দল।
শুধু টেস্ট কোচ নয়, সাদা বল দলের কোচ গ্যারি কার্স্টেনও সম্প্রতি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সিলেকশনের বাইরে থাকা অবস্থায় যখন আমাকে শুধু দলের সঙ্গে থাকতে বলা হলো, তখনই বুঝেছিলাম কোনো প্রভাব রাখতে পারব না। একজন কোচ হিসেবে এটা বড় অসহায় অবস্থা।’
প্রশ্নটা এখন কেবল আজহার মাহমুদের সামর্থ্য নিয়ে নয়—বরং পিসিবির কোচিং পদ্ধতি ও পরিকল্পনার দীর্ঘস্থায়ী অভাব নিয়েও। নিয়মিত কোচ পরিবর্তন, অস্পষ্ট কর্তৃত্ব, আর পারফরম্যান্সহীনতা—সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের সামনে এখন এক কঠিন সময়। আজহার মাহমুদ সেই স্থিতি এনে দিতে পারেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।