ডিপিডিসির স্টোরকিপার মামুনের বিদ্যুৎ চুরি

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) পোস্তগোলা অফিসের স্টোরকিপার আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরেই মিটার টেম্পারিং ও বিদ্যুৎ চুরি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিপিডিসি তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির মামলাও করেছে। তিনি বিদ্যুৎ চুরি ও মিটার টেম্পারিং করে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জে দশতলা বাড়ির তথ্য পেয়েছে। এ ছাড়া তার মোটা অঙ্কের ব্যাংক-ব্যালান্স থাকার তথ্যও পেয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা স্টোরকিপার মামুনের ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আর কী স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, তার রেকর্ডপত্র সংগ্রহের কাজ করছে।

দুদকের তথ্য বলছে, ডিপিডিসির পোস্তগোলা অফিসের স্টোরকিপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে চলতি বছরের ৬ মার্চ অনুসন্ধানে নামে দুদক। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন।

জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ পৌরসভার হীরাঝিল আবাসিক এলাকার ৮ নম্বর রোডের ২২৭ নম্বরে প্লটে আল-হেরা টাওয়ার নামে একটি দশতলা ভবন নির্মাণের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু জমি ও ব্যাংকে মোটা অঙ্কের অর্থ গচ্ছিত থাকার তথ্যও রয়েছে দুদকের হাতে।

দুদকের শীর্ষপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ডিপিডিসির স্টোরকিপার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী নেওয়া হয়েছে। তার আয়কর নথিসহ আরও কিছু রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন তার সম্পদ বিবরণী যাচাই করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে তার আর কোনো সম্পদ আছে কি না, তা জানাতে দেশের ব্যাংক, বীমা, সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), ডাকঘরসহ বিভিন্ন অফিসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য দুদকে পাঠাতে বলা হয়েছে। রেকর্ডপত্র হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ কমিশনে একটি প্রতিবেদন পেশ করা হবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, ডিপিডিসির পোস্তগোলা অফিসের স্টোরকিপার আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরেই মিটার টেম্পারিং করে বিদ্যুৎ চুরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে আব্দুল্লাহ আল মামুনের সিদ্দিরগঞ্জের মিজমিজি হীরাঝিল আবাসিক এলাকার ৮ নম্বর রোডের ২২৭ নম্বর প্লটের আল-হেরা টাওয়ারে অভিযান চালায় ডিপিডিসির স্পেশাল টাস্কফোর্স। অভিযানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের দশতলা ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহের মিটারে (বিদ্যুৎ গ্রাহক নম্বর : ১৫১৫২২৭০) টেম্পারিং করে বিদ্যুৎ চুরির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি মিটার টেম্পারিং করে ৫ লাখ ৮ হাজার ৫৮৬ ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি করেছেন বলে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে তাকে জরিমানা বিল করা হয় ১ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ৬৫৯ টাকা। তাকে একই বছরের ৮ নভেম্বরের মধ্যে ওই বিল পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। তিনি বিল জমা না দেওয়ায় ১৮ নভেম্বর ডিপিডিসি সিদ্ধিরগঞ্জ বাণিজ্যিক কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী আকরাম হোসেন বাদী হয়ে বিদ্যুতের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আদালত-৪) একটি মামলা করেন (মামলা নম্বর : ২০৩/২১)। মামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগমকে আসামি করা হয়। সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি দুদকে জানানোর পর অনুসন্ধানে নামে সংস্থাটি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল ডিপিডিসির পোস্তগোলা অফিসে যোগাযোগ করেও আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।