৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর পাঁচটি ইউনিয়নের কুড়ি হাজারের বেশি গ্রাহক। ভোলার মুজিবনগর উপকেন্দ্র থেকে বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেতুঁলিয়া নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবল সংঘবদ্ধ একটি চক্র চুরি করার উদ্দেশ্যে কেটে ফেলায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কেবল সংযোগের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চললেও কখন নাগাদ বিদ্যুৎসংযোগ চালু হবে এমন নিশ্চয়তা দিতে পারেনি পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। কাটা অংশ শনাক্তের ওপর নির্ভর করছে কেবল জোড়া এবং চালুর বিষয়টি। এমন তথ্য জানায় পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় মানুষ।
এ ঘটনায় দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। আটকদের তথ্যের ভিত্তিতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করলেও ঠিকানা জানা না থাকায় তা অনুল্লেখ করে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেছেন পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম সাখাওয়াত হোসেন।
ভোলার মুজিবনগর উপকেন্দ্র থেকে বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেতুঁলিয়া নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে রাঙ্গাবালী উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তিনটি ফেজ দিয়ে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা হয়। আকস্মিক সমস্যাজনিত ত্রুুটি হলে বিদ্যুৎ চালু রাখার জন্য আরও একটি অতিরিক্ত ফেজ রয়েছে। শনিবার রাত ১১টায় রাঙ্গাবালীর গহিনখালীসংলগ্ন বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর অংশে সংঘবদ্ধ একটি চক্র চুরি করার উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে কেটে ফেলে সাবমেরিন কেবলের একটি সচল ফেজ ও অতিরিক্ত ফেজ। ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নসহ ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবি ইউনিয়ন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত ৮টায় গহিনখালী এলাকায় সাবমেরিন কেবল কাটার কাজ শুরু করে সংঘবদ্ধ চোর চক্র। কেবর কাটার সময় বিকট শব্দে ভয় পেয়ে চক্রের ছয় সদস্য পালিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে যায় দুজন। ধৃতরা হলেন, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের গোবতের হাওলা গ্রামের জসিম মৃধা (৩৫), রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চররুস্তুম গ্রামের জুয়েল মৃধা (২৫)। সম্পর্কে তারা দুজন চাচাতো ভাই। এলাকাবাসী দুজনকেই পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছে, ভোলা থেকে ছয় সদস্যের একটি চক্র গলাচিপার পানপট্টি এলাকা থেকে জসিম মৃধার মালিকানাধীন ট্রলার নিয়ে শনিবার বিকেল ৪টায় গহিনখালী এস পৌঁছায়। ছয়জন সদস্যের বাড়ি ভোলা জেলায় হলেও তাদের নাম পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারা আরও জানায়, সাবমেরিন কেবল কাটার জন্য তারা প্রায় তিন লাখ টাকার সরঞ্জাম ক্রয় করেছে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রাঙ্গাবালী সাব জোনাল অফিসের এজিএম কাওসার আহম্মেদ বলেন, সাবমেরিন কেবলের কাটা অংশ জোড়া দেওয়ার জন্য একটি টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎসংযোগ চালুর জন্য সঙ্গে থেকে সেই কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আজ সংযোগ চালু করতে পাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরও বেশ কয়েক জায়গায় লাইন কেটে ফেলা হয়েছে। যা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। কাটা অংশ শনাক্তের ওপর নির্ভর করছে সংযোগ জোড়া এবং চালুর বিষয়টি।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, সংযোগ জোড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত চলছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো নিরূপণ করা যায়নি। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে রবিবার রাতে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমারৎ হোসেন বলেন, আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটকদের তথ্যের ভিত্তিতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করলেও ঠিকানা জানা না থাকায় তা অনুল্লেখ করে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেছে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম সাখাওয়াত হোসেন। ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্য ও চক্রের মূল সদস্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।