সিরিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারি

সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, সে লক্ষ্যে সিরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার জারি করা আদেশে বলা হয়, সিরিয়ার পুনর্গঠন, সরকার পরিচালনা এবং সামাজিক সংহতি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখযোগ্য যে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের ৬ মাস পর এই আদেশ জারি হলো। তবে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, আসাদ, আইএস, ইরান ও তাদের মিত্রদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ জানায়, ইতিমধ্যে সিরিয়ার ৫১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করা হবে।

এদিকে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইলহান ওমর এবং রিপাবলিকান আনা পলিনা লুনা যৌথভাবে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যাতে সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিলটিতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে ‘বিশেষভাবে মনোনীত সন্ত্রাসী’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ এবং তার নেতৃত্বাধীন আল-নুসরা ফ্রন্টকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর্যালোচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আহমেদ আল-শারা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিয়ে আসাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরান। এরপর মে মাসে সৌদি আরবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়, যেখানে ট্রাম্প তাকে দৃঢ়চেতা ও আকর্ষণীয় নেতা বলে মন্তব্য করেন। সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বহুদিন ধরে বলবৎ ছিল। এর অনেকগুলো ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধেরও আগে থেকে আরোপিত। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে প্রণীত এই ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা সিরিয়ার পুনর্গঠন কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।