দিনে ৩০০-এর ঘরে ডেঙ্গু রোগী নিয়ে যাত্রা শুরু হলো জুলাই মাসের। এর ফলে গত মাসের শেষ সপ্তাহের টানা ৩০০-এর ঘরে রোগী ভর্তির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রইল। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৮৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গুতে মারা গেছে একজন।
গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য জানায়।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দিনের নতুন রোগীদের মধ্যে ৪২ শতাংশ, অর্থাৎ ১৬৩ জনই বরিশাল বিভাগের। বাকি বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকায় ৭৩ জন, রাজশাহীতে ৩৯, চট্টগ্রামে ১৯, খুলনায় ১৬ ও ময়মনসিংহে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।
দিনের রোগীর ৪২ শতাংশ ছিল দুই জেলায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয়েছে বরগুনায় ৯৩ জন বা ২৪ শতাংশ। এরপর রাজধানী ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ৬৮ জন বা ১৮ শতাংশ রোগী। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে ৩৮ জন ও উত্তর সিটিতে ৩০ জন ভর্তি হয়েছে। এরপর বরিশালে ১০ শতাংশ বা ৩৮ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৪ জন বা ৯ শতাংশ রোগী ভর্তি হয়েছে। বাকি ৩৯ শতাংশ রোগী অবশিষ্ট ২৭ জেলায় ভর্তি হয়েছে। সে হিসেবে গতকাল দেশের ৩১ জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে একজন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছে, তিনি ৪৬ বছর বয়সী এক পুরুষ ও রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর তথ্য সংরক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। ডেঙ্গু নিয়ে ২০২২ সালে দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন ও মারা যায় ৫৭৫ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর এ সংখ্যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর মৃতের সংখ্যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ বছর এখন পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৮২ জনে ও মারা গেছে ৪৩ জন।