সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে যেতে হলে সংসদের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘যেকোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে জনগণের নির্বাচিত সংসদের ভোট প্রয়োজন। সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, যা বাইরে থাকবে তা জনগণের মতামতের মাধ্যমে করতে হবে।’
গতকাল বুধবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনটি দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে খসরু এ কথা বলেন।
দিনের প্রথম বৈঠক বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে শুরু হয় বাংলাদেশ জন অধিকার পার্টির সঙ্গে। এতে বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াও দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। বাংলাদেশ জন অধিকার পার্টির পক্ষে ছিলেন দলটির চেয়ারম্যান ইসমাইল সম্রাট ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক। পরে বিকেল ৪টা ১০ থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠক হয়। এতে বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদ, যুগ্ম মহাসচিব আকবর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে একই নেতারা অংশ নেন।
বিকেল ৫টা থেকে শেষ বৈঠক হয় আমজনতা দলের। যেখানে আমজনতা দলের পক্ষে দলের সভাপতি কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
১৭ বছরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ করা যায়নি : নজরুল
গত ১৭ বছরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ করা যায়নি মন্তব্য করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘দেশের জনগণ জানে কারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বৈরাচারের সমর্থন দিয়েছে, আর কারা অবিরাম গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। কাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মামলা দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ বছরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ করা যায়নি। আপনাদের মধ্যে অনেকেই তারেক রহমানকে দানব বানিয়ে দিয়েছিলেন।’
গতকাল বুধবার সকালে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের নিয়ে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নজরুল সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দলের কোনো লোক যদি অপরাধ করে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে আমরা তাতে খুশি হব। যারা অপরাধ করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
তিনি বলেন, ‘যে লক্ষ্যে আমরা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটালাম সেই লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। এখনো বাংলাদেশের জনগণ তাদের যে মৌলিক, ভোটের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আমরা সেজন্য মনে করি, এই মুহূর্তে প্রধান কাজ শহীদদের আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে একটা মানবিক একটা গণতান্ত্রিক একটা প্রগতিশীল আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জনগণের শাসন কায়েম। সেটা শুধু ভোটের মাধ্যমে সম্ভব, নির্বাচনের মাধ্যমে সম্ভব।’
এ সময় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলার নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবুল, সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকনের সঙ্গে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, এমরান সালেহ প্রিন্স, শরীফুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওরারেস আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত ‘পিআর পদ্ধতির নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে আবারও যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, তার প্রমাণ হাতপাখার (ইসলামী আন্দোলনের দলীয় প্রতীক) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মিটিং। সেখানে কিছু রাজনৈতিক নেতার পিআর পদ্ধতি ও নির্বাচন না হওয়া নিয়ে বক্তব্যও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ।’
তিনি বলেন, ‘লন্ডনে তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের বৈঠক যখনই প্রত্যাশা পূরণের অপেক্ষায় তখনই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাতপাখার মিটিং করে দু-চারজন নেতা নিয়ে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি ও সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না, এসব কথা বলা শুরু করেছে। অন্তর্বর্র্তী সরকারের ১১ মাস পার হলেও এখনো সংস্কার শেষ করতে পারেনি। ফেব্রুয়ারিতে অনুগ্রহ করে নির্বাচনটা দিন। দেশকে শান্তির পথে নিয়ে আসেন, দেশের মানুষকে শান্তিতে বসবাস করতে দিন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে যেন এই প্রতিষ্ঠানগুলো আবার কাজ করার সুযোগ পায়।’
তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল প্রমুখ।