বান্দরবানের পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে সংগঠনটির একজন কমান্ডারসহ দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে পাইন্দু ইউনিয়নের পলি প্রাংসা ও মুয়ালপি পাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করার পাশাপাশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় রুমা জোনের মাল্টিপারপাস শেডে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন রুমা জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, বুধবার রাতে কেএনএফের সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালিত হয়। পাইন্দু ইউনিয়নের পলি প্রাংসা ও মুয়ালপি পাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় কেএনএফের একটি সশস্ত্র দলের অবস্থানের তথ্যের ভিত্তিতে রাত থেকে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। ভোর ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কেএনএফ সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজন কেএনএফ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার এবং অন্যজন সশস্ত্র শাখার সদস্য ছিলেন।
এ সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে কেএনএফের তৎপরতার কারণে অনেক বম পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। সেনাবাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন ও সফল অভিযানের ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ফলস্বরূপ, ১২৬টি পরিবার তাদের নিজ এলাকায় ফিরে এসেছে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তা, আশ্রয় ও পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে।’
রুমা জোন কমান্ডার জানান, এ অভিযান শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে ১২৬টি পরিবার ফিরে এসেছে। গত ৬ তারিখ থেকে বগালেক পর্যটন কার্যক্রমও পুনরায় চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ঘটনাস্থল বগালেক পর্যটন এলাকা থেকে অনেক দূরে। মিডিয়ায় এ ঘটনার প্রচারের কারণে পর্যটনে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। তবে, অল্প কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।