গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লায় বন্যার শঙ্কা

টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হু হু করে বাড়ছে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি। এতে জেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গোমতী নদীর পানি ৮ দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে, যা বিপৎসীমার মাত্র ২ দশমিক ৪৭ মিটার নিচে। 

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি প্রায় ৫ মিটার বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যসহ উজানের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত। সেই ঢল গোমতী দিয়ে নেমে আসছে কুমিল্লা অংশে।

কুমিল্লা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘উজানের ঢল ও স্থানীয়ভাবে ভারী বর্ষণের কারণে পানি বাড়ছে। বৃষ্টি থেমে গেলে এবং ঢলের চাপ কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। আমরা সতর্ক আছি, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছি।’

এদিকে কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল বিকেল ৩টা থেকে আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারী বর্ষণ হচ্ছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আরিফ বলেন, ‘সাগরে একটি লঘুচাপ আছে, তবে তা ভারতের অংশে অবস্থান করছে। ফলে চট্টগ্রাম বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভির আহমেদ বলেন, ‘গোমতীর পানি এখনো বিপদসীমার ৮ ফুট নিচে আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে পানি না এলে পরিস্থিতি তেমন খারাপ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোমতীর চরে বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। হঠাৎ পানি এভাবে বাড়বে, তা আমরা আগে বুঝতে পারিনি। আমরা সরেজমিনে গোমতীর পাড় ঘুরে দেখছি।’

এ অবস্থায় আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। পানি যদি একই হারে বাড়তে থাকে, তবে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুতই প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।  

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ‘জেলায় ৫৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও জিআর চাল মজুত আছে। আমরা বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’