হাদিসে যে প্রাণী সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে

আল্লাহতায়ালা বিশ্বজগৎকে অসংখ্য সৃষ্টি দ্বারা পূর্ণ করেছেন, যার মধ্যে প্রাণিকুল এক বিশেষ গুরুত্ববহ সৃষ্টি। প্রতিটি প্রাণীই তার কুদরতের নিদর্শন এবং মানুষের জন্য কোনো না কোনোভাবে উপকারী। কোরআনের একাধিক স্থানে চতুষ্পদ প্রাণীদের উপকারিতা ও মানুষের প্রতি সেগুলোর কল্যাণকর ভূমিকার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তবে পৃথিবীর সব প্রাণী মানুষের অনুকূলে কাজ করে না। মানুষের মধ্যে যেমন অপকারী ও ধ্বংসাত্মক স্বভাববিশিষ্ট কিছু ব্যক্তি থাকে, তেমনি প্রাণিজগতে কিছু প্রাণী রয়েছে যেগুলো স্বভাবগতভাবেই ক্ষতিকর, হিংস্র ও মারাত্মক বিষধর। এগুলোর মধ্যে বিষধর সাপ ও বিচ্ছু অন্যতম। হাদিসে এসব প্রাণীর বিষয়ে সতর্কতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় বাড়িঘরে সাপ রয়েছে। যদি তোমরা সেখানে কোনো সাপ দেখতে পাও তাহলে ৩ বার সতর্ক করবে। এতে সাপ যদি চলে না যায় তাহলে সেটিকে মেরে ফেলবে। কেননা তা অবাধ্য।’ (সহিহ বুখারি)

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘মদিনায় জিনদের একটি দল ইসলাম গ্রহণ করেছিল। যদি কেউ বাড়িতে সাপের আকৃতি ধারণকারী কোনো জিন দেখতে পায় তাহলে যেন ৩ বার সতর্ক করে। তারপরও যদি সাপটি গর্ত থেকে বের হয়ে আসে তাহলে সেটিকে হত্যা করে ফেলবে। কেননা তা শয়তান। (সহিহ মুসলিম)

এসব হাদিসে মানুষকে যে ৩ বার সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা কেবল বাড়িতে বসবাস করে এমন সাপগুলোর জন্য প্রযোজ্য। এ ছাড়া এমন কতক সাপ কিংবা ক্ষতিকর প্রাণী রয়েছে যেগুলোকে রাসুল (সা.) দেখা মাত্রই হত্যা করে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) মসজিদের মিম্বরে খুতবায় বলেছিলেন ‘তোমরা সব সাপ হত্যা করে ফেলবে।’ আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, এরপর থেকে যে সাপই দেখতাম মেরে ফেলতাম। (সহিহ বুখারি)

হজরত সালেম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দুই শিং বিশিষ্ট ও লেজকাটা সাপ হত্যা করে ফেলবে। কেননা তা গর্ভপাত করে দেয় এবং দৃষ্টি নষ্ট করে ফেলে।’ (সহিহ মুসলিম)

অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দুটি কালো প্রাণীকে (সাপ ও বিচ্চু) নামাজরত অবস্থায় মেরে ফেলবে।’ (জামে তিরমিজি)

সমাজে একপ্রকার কুসংস্কার রয়েছে। কেউ যদি সাপ মেরে ফেলে তাহলে সেই সাপের বংশের কিংবা সঙ্গীর কোনো সাপ সেই ব্যক্তি থেকে প্রতিশোধ নিতে আসে। এমন ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা কিংবা এগুলোকে সঠিক মনে করা অত্যন্ত গোমরাহি ও ভ্রান্ত চিন্তা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সব ধরনের সাপ হত্যা করে ফেলবে। অতএব যে সাপ থেকে প্রতিশোধের ভয় পায় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ)

স্বপ্নের বিষয়ে প্রখ্যাত ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনে সিরিনের মতে, সাপ স্বপ্ন দেখার অর্থ হচ্ছে নিজের শত্রুকে দেখা। স্বপ্নে মানুষটির বিপরীতে সাপ যতটা সবল ও শক্তিশালী, বাস্তবে তার শত্রুরা ততটাই শক্তিশালী।’

হাদিসে বর্ণিত সাপ ও বিচ্ছুর মতো ক্ষতিকর প্রাণীদের বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি, নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশনা এবং সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার প্রতি যথাযথ জবাব তুলে ধরা হয়েছে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও বিশ্বাসকে শুদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।