হাইকোর্টের রায়ে দুদকে ফিরছেন সেই শরীফ উদ্দিন

তিন বছরের বেশি সময় আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক পদ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল শরীফ উদ্দিনকে। অবশেষে শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশনা এসেছে হাইকোর্ট থেকে। গতকাল বুধবার এক রায়ে শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা ও সুবিধাদিসহ তাকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ সংক্রান্ত রুল মঞ্জুর করে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্য মতে, দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক পদে থাকাকালীন শরীফ উদ্দিন কক্সবাজারে ৭০ টির বেশি প্রকল্পে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি, রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতি, কর্ণফুলী গ্যাসে অনিয়মসহ বেশ কিছু দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা, মামলা দায়ের ও তদন্ত করেন। ২০২১ সালে তাকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরিচ্যুত করে দুদক। তবে, তখন অভিযোগ ওঠে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিস ছাড়াই শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরি ফিরে পেতে দুদকে আবেদন করে ব্যর্থ হন তিনি। ঘটনাটি তখন দেশ জুড়ে আলোচনায় আসে। এরপর কোনো কারণ দর্শানো নোটিস ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণ-সংক্রান্ত দুদক কর্মচারী বিধিমালার ৫৪ (২) বিধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একই বছরের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন শরীফ উদ্দিন। আবেদনে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশনার আরজি জানান তিনি। গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির আদেশ কেন বেআইনি হবে না, এ মর্মে রুল দেয়। পাশাপাশি বেতন ও অন্যান্য সুবিধাসহ তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চায় আদালত। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল হাইকোর্ট শরীফ উদ্দিনের পক্ষে রায় দেয়।

আদালতে শরীফ উদ্দিনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন। তিনি হাইকোর্টের রায়ের বরাতে সাংবাদিকদের বলেন, রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা, সব সুবিধা ও বকেয়া বেতনসহ শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির আদেশকে প্রথম থেকে বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। এই রায়ের পর ধরে নেওয়া হবে তিনি সব সময় চাকরিতে বহাল ছিলেন। শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির ঘটনা উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন বলেন, তাকে ১৩০টির মতো মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার বিষয়ে তদন্ত করেন তিনি। ২০২১ সালে ৩০ জুন ৬২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি উঠে আসে। এ প্রতিবেদন দাখিলের পর শরীফ উদ্দিনের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘৫ আগস্টে সফল অভ্যুত্থান পরবর্তী যে অবস্থা, সেই অবস্থা না হলে হয়তো আমি ন্যায়বিচার পেতাম না। আমি যাতে সামনের দিনগুলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিশনের একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে চলতে পারি এজন্য সবাই দোয়া করবেন।’