লক্ষ-কোটি দেখায়েন না আন্দোলনে দেখেছি কার কত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল তাদের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষের কথা বলে। কোটি কোটি মানুষের দল নাকি তাদের। এই কোটি কোটি মানুষ আমাদের দেখায়েন না। আমরা ফ্যাসিবাদের আমলে দেখেছি কার কত মানুষ ছিল এবং সেই মানুষ নিয়ে কত কত আন্দোলন গড়ে তুলে ছিল।’ গতকাল শুক্রবার দুপুরে পদযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন। এর আগে জুমার নামাজ শেষে যশোর শহরের মুজিব সড়কের রেলস্টেশন এলাকার মডেল মসজিদ থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। শেষ হয় একই সড়কের কোর্ট মসজিদ মোড়ে। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

নাহিদ বলেন, ‘বিচার সংস্কার ছাড়া নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। যারা বিচার সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের পরিকল্পনা করে তারাই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। নির্বাচন ভোটাধিকারের পক্ষে সত্যিকার অর্থে লড়াই করে যাচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি। আমরা স্বাধীনতা এনেছি, আমরা সংস্কার আনব, আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।’

সারজিস আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখপাত্র হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখপাত্র ডেপুটি সামান্তা শারমিন, ডা. মাহমুদা লিটু প্রমুুখ।

সমাবেশে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন সংস্কারের কথা বলছি, বিচারের কথা বলছি, তারা তখন শুধু নির্বাচনের কথা বলছে। বাংলাদেশে যদি আগের হাসিনার সিস্টেমই থাকে, হাসিনার সংবিধানই থাকে, হাসিনার বিচার বিভাগই থাকে, হাসিনার প্রশাসনই থাকে, তাহলে আমাদের নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন কি বাস্তবায়ন হবে? তরুণরা জীবন দেয়, রক্ত দেয় আর কিছু রাজনৈতিক দল এর ফায়দা লোটে। এবারও আন্দোলন হলো, ওরা চেয়েছিল আন্দোলনের পর আমরা ঘরে ফিরে যাব।’ তিনি বলেন, ‘সংস্কারের আলাপ এখনো টেবিলে আছে। সংস্কারের আলাপ টেবিল থেকে রাজপথে আনতে বাধ্য করবেন না। টেবিলের আলাপে যদি সম্মত না হন, বাংলাদেশের মানুষ জুলাই আন্দোলনে যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল, সংস্কারের দাবিতে তার থেকেও বহুগুণে তারা রাজপথে নেমে আসবে ইনশাআল্লাহ।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা সংস্কারের কথা বলি, গোস্বা করে একটি রাজনৈতিক দল। আমরা বলি লন্ডনে বসে সংস্কার হয়, গোস্বা করে একটি রাজনৈতিক দল। লন্ডনে অবশ্যই ষড়যন্ত্র হয়। হাসিনার পতিত দোসররা একটা পক্ষ পালিয়েছে ভারতে আর একটা পক্ষ পালিয়েছে লন্ডনে।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর শহরের একটি হোটেলে জুলাই আন্দোলনের ৪ শহীদ পরিবার ও ১১ আহতের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এনসিপি নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ।

মতবিনিময়কালে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই। আমরা বরং দেখতে পাচ্ছি নির্বাচন ঠেকানোর জন্য আরও অন্যান্য রাজনৈতিক দল এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। তারা বিচার ও সংস্কার এবং জুলাই ঘোষণাপত্র ঠেকিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়।’