আলী রীয়াজ বললেন

বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘ক্ষমতা হলো দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট, স্বেচ্ছাচারিতা চালাবার লাইসেন্স নয়। কোনো ব্যক্তিই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে নয়।’ তিনি বলেন, নির্বাহী বিভাগকে অবশ্যই প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির আওতায় আনতে হবে এবং সেই নজরদারি না রাখার কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একে একে ধ্বংস হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘ছাত্র শ্রমিক জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি : বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূর।

আলোচনার শুরুতেই ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘ক্ষমতা হলো দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট, স্বেচ্ছাচারিতা চালাবার লাইসেন্স নয়। কোনো ব্যক্তিই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে নয়।’ তিনি বলেন, নির্বাহী বিভাগকে অবশ্যই প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির আওতায় আনতে হবে, এবং সেই নজরদারি না রাখার কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একে একে ধ্বংস হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তির মঙ্গল নিশ্চিত করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বন্দোবস্ত তৈরি করতেই হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়নে কাজ করছে, যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণার আলোকে সাম্য, সমতা ও অধিকারের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’ তিনি প্রত্যাশা করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করা যাবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশকে কেউ যেন “গানিমতের মাল” মনে না করে যা খুশি তাই করতে পারে এই মানসিকতা বন্ধ করতে হবে।’ তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ, আবরার ফাহাদ এবং সাম্প্রতিক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড একই ধারার পৈশাচিকতার প্রতিফলন।

সভায় ব্যারিস্টার ফারহানার পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘চেয়ারের মজা নিতে গেলে দায়িত্বশীল আচরণ করতেই হবে।’ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বাসদের সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মজিদ আতাহারী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়কারী মাসুদ রানা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান এবং আহত জুলাই যোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফায়েজুর রহমান মনির।

আলোচনাসভার শুরুতে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।