ভারত অধিনায়ক শুবমান গিল এমনিতেই বেশ ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত। তবে লর্ডস টেস্টের উত্তাপের মাঝে দেখা গেল তার ভিন্ন রূপ। গতকাল শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় দুই দলের ক্রিকেটাররা বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তখন ইংলিশ ওপেনার জ্যাক ক্রলিকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন শুবমান। ভারতের অন্য ক্রিকেটারেরাও ইংলিশ ওপেনারদের বিদ্রুপ করেন। মাঠে ছড়ায় উত্তেজনা।
ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর যে সময় ছিল, তাতে দুই ওভার খেলা হতে পারত। দিনের শেষদিকে নতুন বলের সুইং খেলা কঠিন। তাই ইংল্যান্ডের ওপেনারেরা সময় নষ্ট করছিলেন। তারা এক ওভারের বেশি না খেলার পরিকল্পনা নিয়েই সম্ভবত ব্যাট করতে নেমেছিলেন। জসপ্রীত বুমরা তৃতীয় বলটি করার জন্য দৌড় শুরু করতেই হঠাৎ উইকেট থেকে সরে যান ক্রলি। গ্যালারিতে কেউ নড়াচড়া করছেন বলে তিনি ইঙ্গিত করলেও সেখানে কেউ ছিলেন না।
অকারণে সময় নষ্ট করায় বিস্ময় প্রকাশ করেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। এই সময় দেখা যায় শুবমান স্লিপ থেকে এগিয়ে এসে ক্রলিকে কিছু বলছেন। তবে আম্পায়ারদের হস্তক্ষেপে ঘটনা বেশিদূর যায়নি। এরপর বুমরার পঞ্চম বল করার আগে দুই ওপেনার খানিকক্ষণ নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। তাদের ইচ্ছাকৃত সময় নষ্ট দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। পঞ্চম বল খেলার পর ক্রলি চোট পাওয়ার অভিনয় করেন।
ইংলিশ ওপেনার বোঝাতে চাইছিলেন, বুমরার বল তার আঙুলে লেগেছে। তিনি গ্লাভস খুলে লেগ আম্পায়ারের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। ড্রেসিংরুমের দিকে ইশারা করে ফিজিওকেও ডাকেন। অথচ তিনি ব্যাটের মাঝখান দিয়ে এবং নীচের অংশ দিয়ে যেভাবে ডিফেন্স করেছিলেন, তাতে বল তার আঙুলে লাগার কথা নয়। ইংল্যান্ড ওপেনারের অভিনয় দেখে বিদ্রুপ শুরু করেন ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। শুরু হয় হাততালি দেওয়া।
শুবমানেরা যেন বুমরার বল খেলার সাহসিকতার জন্য ক্রলিকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন। এটা দেখে ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটার উত্তেজিতভাবে নিজেদের কথা বলতে শুরু করেন। সময় নষ্ট হওয়ায় আর মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি শুবমান। তিনি হঠাৎ ক্রলির দিকে তেড়ে গিয়ে ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমের দিকে মুখ করে ইমপ্যাক্ট সাব নামানোর সঙ্কেত দেন। এসময় ক্রলি আর শুবমান দুজনেই আঙুল উঁচিয়ে কথা বলতে দেখা যায়।
বেন ডাকেট এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও শুবমানের লেগে যায়। বাদানুবাদে যোগ দেন লোকেশ রাহুলসহ ভারতের অন্য ক্রিকেটারেরাও। এসময় ক্ষুব্ধ শুবমান প্রকাশ অযোগ্য ভাষায় গালাগালি করেন ক্রলিকে। প্রায় ৭ মিনিট ধরে চলে এই নাটকীয়তা। একপর্যায়ে দুই ফিল্ড আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় এক ওভারের পরই দিনের খেলার ইতি টানেন আম্পায়ারেরা। সফল হয় ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা।