ঢাকা মহানগরীতে চলাচলের অনুমতি চেয়ে বনানীতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। গতকাল রবিবার সকাল থেকে বিকেল পেরিয়ে গেলেও অবরোধ শেষ হয়নি। ফলে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে তীব্র যানজট দেখা যায় উত্তরা থেকে মহাখালী সড়ক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা সড়কে অবস্থান নিলে দুপাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের সংগঠন ঢাকা সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্যজোট বলছে, তাদের গাড়ি ঢাকা জেলায় নিবন্ধিত হলেও মহানগরীতে চলাচলের সুযোগ পায় না। জেলার অন্য স্থানের মতো নগরে চলাচলের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসা হলেও সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই তারা আজকের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ২টার দিকে চালকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কিছুটা চড়াও হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে চালকদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন চালক আহত হন বলেও জানা গেছে।
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বনানী সড়কে যাওয়া মো. সুমন নামের একজন বাসের যাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১০ মিনিটের পথ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। গাড়ি আগে বাড়ছে না। বনানীর দিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ আছে। কিন্তু রাস্তার যানজটের জন্য গাড়ি আগে বাড়ছে না। তাছাড়া কয়েক দিন পরপর এসব আন্দোলনের জন্য আমাদের এই ভোগান্তির যেন শেষ নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই যাত্রী।
এদিকে আন্দোলন করা এক সিএনজিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিআরটিএর কাছে কয়েক দিন আগেও আমরা দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এটির কোনো সুরাহা করেনি। যার জন্য সবাই আজকের এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবি না আদায় হলে সড়ক থেকে যাবে না বলে জানান এই চালক।
এ বিষয়ে বিকেলে বনানী থানার ওসি মো. রাসেল সারোয়ার বলেন, অটোরিকশা চালকরা এখনো রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। তারা বলছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। প্রথমে তারা রাস্তার দুই লেনে আন্দোলন করছিলেন, আমরা এক লেন থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এখন তারা এক লেন দখল করে আন্দোলন করছেন। তাদের আমরা অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনছেন না।
এদিকে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর রাজধানীর বনানীর সড়ক থেকে সরেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তারা সড়ক ছাড়লে মহাখালী রুটে ইনকামিং ও আউটগোয়িং শুরু হয়।