আজ ১৫ জুলাই। বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর সূচনার এক বছর পূর্তি। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত তথা ১৫ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীদের হলের তালা ভেঙে শুরু হয়েছিল ঐতিহাসিক মিছিল, যা প্রথমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এদিন থেকেই মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের সূচনা হয়। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে ব্যাপক আয়োজন রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভ্যুত্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে ড্রোন শো, সংগীত পরিবেশনা, সেøাগান উৎসব এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর রিক্রিয়েশনসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল রাত ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ হলের মেয়েদের ছিল ২০২৪ সালের অনুরূপ মিছিল নিয়ে বের হওয়ার কর্মসূচি। সন্ধ্যায় বড় পর্দায় ছাত্রলীগের বর্বরতার চিত্র এবং একই সঙ্গে আজ বন্ধ থাকবে ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এলইডি ওয়াল ইনস্টলেশন করা হবে।
এলইডি প্রজেকশনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের বর্বর হামলায় আহতদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হবে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের প্রবেশ করিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হবে। পরে রাতে ড্রোন শো প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
এদিকে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ উদযাপন করা হয়। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে শহীদ মিনারে শুরু হয় জুলাইয়ের গান। শুধু নারী শিল্পীরাই গান পরিবেশন করেন। তারপর সন্ধ্যার পর ড্রোন শো প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল রাত ১২টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের পাঁচটি হল থেকে ঠিক গত বছরের এই দিনের মতো হল গেটের প্রতীকী তালা ভেঙে বের হওয়ার কর্মসূচি পালনের কথা।
২০২৪ সালের ১৫ জুলাই রাত ১২টার পর শেখ হাসিনার ‘কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?’ করা মন্তব্যের প্রতিবাদে “তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার’ সেøাগান নিয়ে হলের তালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলের নারী শিক্ষার্থীরা। ওই রাতেই রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। এরই মধ্য দিয়ে আওয়ামী দুঃশাসন উৎখাতের সূচনা হয়, যা ৫ আগস্ট সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেষ হয়।
দিনটিকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জুলাই আয়োজনে অংশ নিতে আসা দর্শকদের জন্য নির্ধারিত আইডি কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরবরাহকৃত আইডি কার্ড দেখিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে পারবেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে টিএসসি ও আশপাশের ১০টি স্থানে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকবে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানস্থলে থাকবে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্সসেবা।
নিরাপত্তার ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে গতকাল বিকেল ৩টা থেকে বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দর্শনার্থীদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এবং জাতীয় জাদুঘর চত্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম এবং স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে থাকবে। জরুরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে টিএসসি চত্বরসহ আশপাশের সম্ভাব্য স্থানে ফায়ার সার্ভিসের টিম মোতায়েন থাকবে।
ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, ১৫ জুলাইয়ের সব ক্লাস স্থগিত থাকবে। শহীদ মিনারমুখী পলাশী রোডে যান চলাচল বন্ধ থাকবে, তবে হেঁটে চলাচল করা যাবে। শাহবাগ মোড় আংশিকভাবে খোলা থাকবে, তবে রাজু ভাস্কর্য পার হয়ে সুফিয়া কামাল ও শামসুন্নাহার হলে যাওয়া যাবে না।