প্রধান বিচারপতি বললেন

ন্যায়বিচার সহজ করাই আইনি সংস্কারের লক্ষ্য

ন্যায়বিচারকে সহজপ্রাপ্য করে তোলাই আইনগত সংস্কারের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি আরও বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন বৃহত্তর শাসনব্যবস্থার সংস্কার রক্ষায় অপরিহার্য। গতকাল সোমবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে ‘যথাসময়ে বিচার নিশ্চিত করতে পারিবারিক আদালতের পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসন’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচির উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ছাড়া কোনো বিচারব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই কাঠামোগত স্বাধীনতা বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং বৃহত্তর শাসনব্যবস্থার সংস্কার রক্ষায় অপরিহার্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘কার্যকর নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক আইনগত সংস্কারগুলো শুধু আধুনিকায়নের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচারকে সহজপ্রাপ্য করে তোলাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।’

পারিবারিক আদালতের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২৫৯টি মামলা বিচারাধীন, যার মধ্যে ৫ হাজার ৩৪টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। তবে, একই সময়ে ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ১০ হাজার ৮৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এটিকে বিচারক এবং বার নেতাদের ইতিবাচক জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ফল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি (জিজেডি) কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব প্রমুখ।