চীন-ভারত দুই বৈরী সম্পর্কের দেশ। এ দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হয় কদাচিৎ। প্রায় পাঁচ বছর পর এবার চীন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনা সংঘর্ষের পর এই প্রথমবার উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ হলো দুই দেশের মধ্যে। বেইজিংয়ে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে চীনে গিয়েছেন জয়শঙ্কর। সেখানেই গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি অন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জয়শঙ্কর লেখেন, ‘গতকাল সকালে বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট জিনপিংসহ এসসিওর অন্যান্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গে দেখা করলাম। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছি তাকে। তিনি লেখেন, ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও তাকে জানিয়েছি। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকনির্দেশকে আমরা গুরুত্ব দিই।’
২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা সদস্য নিহত হন। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই শীতল হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিন পর এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগকে তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে, বেইজিংয়ের মহাগণভবনে, চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভভরভও। সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, উভয় পক্ষের উচিত চীন-রাশিয়া সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ক জোরদার করা, বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে পারস্পরিক সমর্থন শক্তিশালী করা, দুই দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা স্বার্থ সুরক্ষা করা, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোকে একত্র করা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আরও ন্যায্য ও যুক্তিসংগত বিকাশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাওয়া। তিনি আরও বলেন, দুই দেশকে পরস্পর সহযোগিতার পাশাপাশি এসসিওর উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দিতে হবে, ক্রমাগতভাবে এই সংস্থার মধ্যে নতুন চালিকাশক্তি যোগ করতে হবে এবং কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে একে আরও শক্তিশালী করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন শি।