মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় মাকে হত্যার অভিযোগে ৩০ বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কানু মিয়া (৫০)। হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের মৃত চিনি মিয়ার ছেলে কানু মিয়া ১৯৯৫ সালে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তার মা মেজেষ্টর বিবিকে কোদাল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে তার বড় ভাই মনু মিয়া লাখাই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান কানু মিয়া।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল দুপুর ২টায় কানু মিয়া তার মাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার পর গ্রামবাসী তাকে পুলিশে হস্তান্তর করেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ মার্চ পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে, কানু মিয়ার মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে মামলাটি ২০০৩ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে তিনি হবিগঞ্জ ও সিলেট কারাগারে এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু মুক্তি পাননি। হবিগঞ্জ কারাগারের জেলার মো. মনির হোসেন চৌধুরী জানান, কানু মিয়ার বিষয়টি বিভিন্ন সময় উচ্চতর কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তা কার্যকর ফল পায়নি। তিনি ৩০ বছর ২ মাস ১৬ দিন কারাভোগ করেছেন। এ সময় তার স্বজনরা প্রথমে দেখাশোনা করলেও পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন কানু মিয়া হয়তো জীবিত নেই।
সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী জজ মুহম্মাদ আব্বাছ উদ্দিন কারাগার পরিদর্শনকালে কানু মিয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি জানতে পারেন, মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে এবং বাদীর সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি কানু মিয়ার ভাই নাসু মিয়ার খোঁজ পান এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে একজন আইনজীবী নিয়োগ করেন। গত ৯ জুলাই আইনজীবী নিয়োগের পর ১৩ জুলাই (সোমবার) জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগমের আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে।
হবিগঞ্জ জজ কোর্টের পিপি মো. আব্দুল হাই জানান, মামলাটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত ছিল।
জেলার মো. মনির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি আগে কয়েকবার আদালতের নজরে আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা এগোয়নি। এবার লিগ্যাল এইডের উদ্যোগে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। কানু মিয়া কথা কম বলেন। পরিবারের কাছে ফিরলে তিনি হয়তো সুস্থ হয়ে উঠবেন।