অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘জাতীয় সংস্কারক’ উপাধি পেতে ইচ্ছুক নন বলে গতকাল মঙ্গলবার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ ঘোষণা করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সোমবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ওই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এ-সংক্রান্ত বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ ঘোষণা করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট থেকে যে রুল জারি করা হয়েছে, সেটি সরকারের নজরে এসেছে এবং আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর সরকার যথাসময়ে এই রুলের জবাব দেবে। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার স্পষ্ট করতে চায় যে, অধ্যাপক ইউনূস নিজে এমনভাবে ঘোষিত হতে ইচ্ছুক নন এবং সরকারও তাকে এ ধরনের কোনো উপাধি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। আবেদনকারী নিজ উদ্যোগে এই রিটটি করেছেন বলে মনে হয় এবং কী ভিত্তিতে এই নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
এদিকে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের ওই রুলে আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ ২৪- এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ব্যক্তিদের যথাযথ তালিকা প্রকাশ করে তাদের ‘জাতীয় শহীদ’ হিসেবে ঘোষণার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
চার সপ্তাহের মধ্যে জনপ্রশাসন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব ও অর্থ সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ২৫ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ইমদাদুল হকের পক্ষে সরকারের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। নোটিসের জবাব না পাওয়ায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়।