১২ চিকিৎসক ও এক সহকারীর নিবন্ধন স্থগিত

ভুল চিকিৎসা, চিকিৎসায় অবহেলা এবং অর্থের বিনিময়ে ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ১২ চিকিৎসক ও এক চিকিৎসা সহকারীর নিবন্ধন স্থগিত করেছে। গত সোমবার বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই স্থগিতাদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সহকারী আগামী ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে বা দেশে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারবেন না।

বিএমডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এছাড়া, লঘু অপরাধের কারণে আট চিকিৎসককে সতর্ক করা হয়েছে এবং ৯টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।

নিবন্ধন স্থগিত হওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের নিবন্ধন পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিব রেজার চিকিৎসায় অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত। ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ল্যাবএইড হাসপাতালে রাহিবের মৃত্যু হয়, যেখানে ডা. স্বপ্নীল অস্ত্রোপচার দলের প্রধান ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে অ্যানেস্থেশিয়ার অনিয়ম, অদক্ষ ব্যক্তির দ্বারা এন্ডোস্কোপি এবং রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তরে ৮৫ মিনিট বিলম্বের তথ্য উঠে আসে, যা রাহিবের মৃত্যুর কারণ হয়।

এছাড়া, দুই বছর আগে প্রকৌশলী আফসার আহমেদের মৃত্যুতেও ডা. স্বপ্নীলের অবহেলা প্রমাণিত হয়। তিন বছরের জন্য নিবন্ধন স্থগিত হয়েছে ডা. ফৌজিয়া ফরিদ, ডা. মোহাম্মদ আক্তার হোসেন, ডা. জাহিদ হোসেন খান, ডা. ফয়জুন নেসা ও ডা. মো. নুরুল আমীনের।

দুই বছরের জন্য স্থগিত হয়েছে ডা. সবুজ কুমার দাস এবং এক বছরের জন্য ডা. সাওদা তাসনীমের নিবন্ধন।

ছয় মাসের জন্য নিবন্ধন স্থগিত হয়েছে ডা. মো. সুনান বিন ইসলাম, ডা. মো. নাসিফ শাহরিয়ার ইসলাম, ডা. প্রভাস ম-ল, ডা. নাহিদা ইয়াসমিন এবং চিকিৎসা সহকারী জাহেদ হাসানের।