আন্দোলনে এনবিআরে ক্ষতি নিরূপণে কমিটি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানের অপসারণ দাবিতে গত মে ও জুন মাসে প্রায় ২০ দিন কর্মসূচি পালন করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা। এ ছাড়া ২৮ ও ২৯ জুন কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন তারা। এসব কর্মসূচির কারণে হওয়া রাজস্ব ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে কমিটি করেছে সরকার।

গতকাল বুধবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) উপসচিব রেদোয়ান আহমেদের সই করা অফিস আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অফিস আদেশে বলা হয়, আইআরডির যুগ্মসচিব সৈয়দ রবিউল ইসলামকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন করে উপসচিব কমিটির সদস্য হবেন। এ ছাড়া কমিটির সদস্য হবেন এনবিআরের একজন, বিজিএমইএর একজন ও এফবিসিসিআইয়ের একজন। আইআরডির উপসচিবের (প্রশাসন-১) একজন হবেন কমিটির সদস্য সচিব।

কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়, কমিটি গত ২৮-২৯ জুন দুদিন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অফিস বন্ধ থাকায় রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, দুই মাসব্যাপী কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ এবং কর বিভাগের কর্মচারীদের কর্মসূচি পালনের কারণে সব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কাস্টম হাউজ, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট এবং আওতাধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/অন্য দপ্তরগুলোর (কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ‘আপিল’ কমিশনারেটসহ) এবং কর অঞ্চলগুলোয় রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবে। পাশাপাশি দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি পালনের কারণে শুল্কায়ন কার্যক্রম এবং সব স্থলবন্দর ও নৌবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ক্ষতিসহ দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

গত ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এ দুই বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করা হয়। মে মাসে প্রায় ১৪ দিন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে সরকারের আশ্বাসে বাজেট পেশ হওয়ার আগে কর্মসূচি প্রত্যাহার হয়। কিন্তু সরকারের আশ^সের সঙ্গে পরে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের সংগতি না থাকায় জুন মাসের শেষ সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ২৯ জুন ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তারা।