আলোচনার নামে ইরানকে ধোঁকা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন অভিযোগ এনেছে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানি সংসদ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী সরকার, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট, ইরানের সঙ্গে আলোচনার নামে প্রতারণামূলক কৌশল গ্রহণ করেছে। খবর: মেহের নিউজ
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কথায় কথায় কূটনীতির পক্ষে থাকলেও, বাস্তবে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অনুমতি দিয়েছে। ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধকালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত নিজেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর প্রতীকী হামলা চালায়—যা সরাসরি আগ্রাসনের শামিল।
ইরানি সংসদের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে আলোচনা ব্যবহার করে ইরানকে বিভ্রান্ত করেছে এবং ইসরায়েলের চোরাগোপ্তা হামলা আড়াল করেছে, তাতে আগের ফরম্যাটে আর কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হলে আগে নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা যুদ্ধ শুরু করে। টানা ১২ দিন ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালায় তারা। এরপর ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র নিজে ইরানের নাটানজ, ফোর্দো এবং ইসফাহানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এই আগ্রাসনের জবাবে ইরান দ্রুত পাল্টা হামলা শুরু করে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ ইউনিট ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’-এর আওতায় ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলজুড়ে ২২ দফায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানি সেনারা কাতারে অবস্থিত ওয়েস্ট এশিয়ার সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি ‘আল-উদেইদ’-এ একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
শেষ পর্যন্ত ২৪ জুন একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে এই সংঘর্ষের অবসান ঘটে।