ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরামহীন হামলার মধ্যেই প্রতিদিনই নতুন করে শোকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক দিনে কমপক্ষে ৯৪ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, আর আহত হয়েছেন প্রায় ২৫০ জন। এই অবস্থা চলতে থাকায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজার ছুঁই ছুঁই করেছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে ৯৪ জনের মরদেহ হাসপাতালে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছে ২৫২ জন। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ অনেক মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।
এই পরিসংখ্যান গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের পর থেকে আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৯ হাজার ছাড়িয়েছে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সহায়তা নিতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলায় আরও সাতজন নিহত হয়েছেন এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত এই ধরনের সহায়তা কার্যক্রমে ইসরায়েলের হামলায় মারা গেছে ৮৫১ জন, আহত হয়েছে অন্তত ৫ হাজার ৬৩৪ জন।
মার্চে গাজায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী ৭ হাজার ৭৫০ জনকে হত্যা করেছে এবং আহত করেছে ২৭ হাজার ৫৬৬ জনকে। এর আগে জানুয়ারিতে অস্ত্রবিরতি এবং বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল দুই পক্ষ।
আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত নভেম্বর মাসে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া গাজায় যুদ্ধকালীন অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও মামলা চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, গাজার মানুষ এখন এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘরবাড়ি ধ্বংস, চিকিৎসাসেবা সংকট, খাদ্য ও পানির অভাবের পাশাপাশি প্রতি মুহূর্তেই প্রাণহানির ঘটনায় তাদের জীবন যেন এক অবিরাম সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় মানবাধিকার রক্ষা এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে গাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা। দীর্ঘদিনের এই সংঘাত থেকে মুক্তির পথ খুঁজে বের করাই এখন সময়ের অন্যতম প্রয়োজনীয় দাবি।