ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে এবার প্রাক্তন প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’র ক্রিকেটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে চাঁদা দিয়ে আজীবন সদস্য হতে পারবেন তারা, সেক্ষেত্রে ভোটাধিকারও থাকবে তাদের। যে সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পালের।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় কোয়াবের বার্ষিক সাধারণ সভা। আসছে সেপ্টেম্বরে সংগঠনটির সম্ভাব্য নির্বাচন। সে লক্ষ্যেই গঠনতন্ত্র সংশোধনসহ নেওয়া হয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ পর্যায়ের খেলোয়াড়দেরও ছিল ভোটাধিকার। কিন্তু নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, এই অধিকার সীমাবদ্ধ করা হয়েছে কেবল বর্তমান প্রথম শ্রেণির ও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে। যদিও প্রাক্তন প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড়রা চাইলে এককালীন এক লক্ষ টাকা জমা দিয়ে আজীবন সদস্য হতে পারবেন।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দেবব্রত পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তামিম সভায় এই বিষয়ে প্রস্তাব দেয়। তাতে অনেক ক্রিকেটার সম্মতি দিলে তা পাশ হয়। কিন্তু প্রথম শ্রেণির, লিস্ট এ, প্রিমিয়ার ডিভশন খেলা ক্রিকেটারদের কোনো ভোটাধিকার থাকবে না এটা হতে পারে না। আবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার ভোটাধিকার পাবে যদি সে টাকা দিয়ে সদস্য পদ কেনে। এভাবে কোনো ওয়েলফেয়ার সংগঠন চলতে পারে। আমি সেটা নিয়েই কথা বলেছি।’
যদিও অন্য একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তামিম ইকবালের প্রভাব খাটিয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করিয়েছেন বলে দাবি করেন। পালের ভাষ্য, ‘ও বলেছিল সে অনেক ক্রিকেটারের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাই সবার তার সিদ্ধান্তই বিবেচনা করা উচিত।’
এজিএমের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কোয়াবের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক। তার দাবি, কোয়াবের সদস্য সংখ্যা প্রায় এক হাজার হলেও সভায় উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন। যেখানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, অন্তত ৩০০ সদস্যের উপস্থিতি আবশ্যক।
এ বিষয়ে মতামত জানতে তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো মন্তব্যই করিনি। আমি শুধু বলেছি, কয়েকজন ক্রিকেটারের হয়ে আমি একটা প্রস্তাব দিতে চাই। সেটা দেওয়ার পর অনেকে সম্মতি দিয়েছেন। এখানে বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার মিলিয়ে ৩৫ জন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ৩০ জনই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। সেখানে আমি কীভাবে প্রভাব খাটালাম বুঝে উঠতে পারছি না।’
সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নিয়ামুর রশীদ রাহুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোয়াবের কার্যক্রম বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়ে। তাদের অসুবিধা-সমস্যাসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য কাজ করে সংগঠনটি। সে কারণেই আমরা প্রথম শ্রেণির বর্তমান ক্রিকেটারদের ভোটাধিকার রেখেছি। সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার যারা ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে তাদের সে কারণেই রাখা হয়নি। তবে ক্রিকেটকে যারা ভালোবাসেন, তারা চাইলে চাঁদা দিয়ে সদস্য হয়ে ভোট দিতে পারবেন, প্রার্থীও হতে পারবেন।’
এজিএমের কোরাম পূরণ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাবেক-বর্তমান ৩০ ক্রিকেটার ছিলেন। কোয়াবের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির ছিলাম আরও ৫ জন। পাশাপাশি ৮ বিভাগের ৮ প্রতিনিধি ছিলেন। ঐ ৮ প্রতিনিধি বিভাগের সব ক্রিকেটারকে প্রতিনিধিত্ব করেন। সেক্ষেত্রে যদি প্রতি বিভাগে ১০০ জন করে ক্রিকেটার থাকেন তাহলে ৮০০ জন ক্রিকেটারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তারা। তাহলে আমার কোরাম তো পূরণ হয়েছেই।’
রাহুল জানিয়েছেন, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে সদস্যপদ চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, সেপ্টেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। এই এজিএমে আরও একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে—যাতে বিসিবি পরিচালক কিংবা বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কেউ কোয়াবের নির্বাহী কমিটিতে থাকতে পারবেন না। তবে তাদের ভোটাধিকার থাকবে।
এদিকে, কোয়াব আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তারা পেয়েছে প্রথম অফিস বরাদ্দ—এটাই কোয়াবের প্রথম স্বীকৃত ঠিকানা।