যুদ্ধকে গেমে রূপান্তর করছে ইউক্রেন!

ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনা ও তাদের অস্ত্রশস্ত্রের তথ্য সংগ্রহে তৎপর ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। ক্যামেরায় ধরা পড়ছে প্রতিটি ঘটনা, হিসাব রাখা হচ্ছে প্রতিদিনের তৎপরতার। এই তথ্য ব্যবহার করে ইউক্রেন চালু করেছে ‘আর্মি অব ড্রোনস : বোনাস’ বা ‘ই-পয়েন্টস’ নামের একটি উদ্যোগ। এর আওতায় রুশ সেনা হত্যা বা তাদের সরঞ্জাম ধ্বংসের জন্য সেনারা পয়েন্ট অর্জন করেন, যা ভিডিও গেমের মতো শোনালেও বাস্তব।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ব্রেভ ১’ নামে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে ইউক্রেন। এই দলের বিবৃতি অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ধ্বংসে বেশি পয়েন্ট দেওয়া হয়। যেমন রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংসে ৫০ পয়েন্ট, ট্যাংক ধ্বংসে ৪০ পয়েন্ট এবং ক্ষতিগ্রস্ত করলে ২০ পয়েন্ট। কিয়েভে আপলোড করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে এই পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়।

ইউক্রেনের ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভ এই পরিকল্পনার মূল কাণ্ডারি। তিনি বলেন, ‘মানসম্মত উপাত্ত সংগ্রহ, যুদ্ধের হিসাব বোঝা এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারই এর লক্ষ্য।’

তিনি জানান, পয়েন্ট ব্যবস্থা সেনাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়ায়। তার কার্যালয়ে বড় ভিডিও স্ক্রিনে ড্রোনের লাইভ ফুটেজ দেখা যায়, যা যুদ্ধের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। সেনা কর্মকর্তারা জানান, রুশ সেনাদের হতাহতের প্রায় ৭০ শতাংশ ঘটছে ড্রোন হামলায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ড্রোন ভিডিওগুলো ভীতিকর হলেও শত্রুর পরাজয় উদযাপন করে। সেনারা জানেন, এই ভিডিও জমা দিলে পুরস্কার মিলবে। তবে, সবাই এই ব্যবস্থার প্রশংসা করেন না। ১০৮তম টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ব্রিগেডের সৈনিক ভলোদিমির এটিকে ইতিবাচক মনে করলেও, দিমিত্র নামের এক সেনাসদস্য এর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এটি যুদ্ধকে মুনাফাচিন্তার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছে। সে ক্ষেত্রে দেশপ্রেম বা দায়িত্ব গৌণ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

 ই-পয়েন্ট ব্যবস্থা এখন ‘ব্রেভ ১ মার্কেট’ নামের ডিজিটাল বাজারের সঙ্গে যুক্ত। এখানে সেনারা পয়েন্ট ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারেন। এই ব্যবস্থা নির্মম মনে হলেও ইউক্রেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞযুদ্ধে কার্যকর ও দক্ষ থাকতে।