ভরসা নৌকা আর শুকনো মৌসুম

ঢাকার ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের সোমভাগ ও ফুকুটিয়া এলাকায় বংশী নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ ঠিকাদার ও এলজিইডি অফিসের দায়সারা মনোভাবে আটকে রয়েছে। ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর নির্মাণকাজ এখনো অসম্পূর্ণ। ফলে বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া পারাপারের বিকল্প নেই, আর শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই দুই পাড়ের মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দারা জানতে চান, এই সেতুর নির্মাণ কবে শেষ হবে? কিন্তু উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কাছে এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নেই। তারা বলছেন, ঠিকাদার কাজ শেষ করবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। 

জানা গেছে, সোমভাগ-ফুকুটিয়া বংশী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করে মেসার্স সুরমা অ্যান্ড খোশেদা এন্টারপ্রাইজ (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে, মাত্র দুটি পিলার নির্মাণের পর ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে যান। কয়েক বছর কাজ পড়ে থাকায় রড, বাঁশের খুঁটি ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে উপজেলা এলজিইডি অফিস তিন দফায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে ঠিকাদার পুনরায় কাজ শুরু করে এবং নদীর মাঝখানে আরও দুটি পিলার নির্মাণ করে। কিন্তু এরপর তৃতীয়বারের মতো কাজ বন্ধ করে তারা আবার চলে যায়। ফলে ভোগান্তির শেষ হয়নি। এ অবস্থার তদারকির জন্য যেন কেউ নেই। বর্তমানে সেতুর মাঝখানের গার্ডার নির্মাণ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে। এতে সেতু নির্মাণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ধামরাইয়ের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ তাই চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জিডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ৯৮.১০ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই সেতু নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬ হাজার ৭৭৪ টাকা। কাজটি পায় মেসার্স সুরমা অ্যান্ড খোশেদা এন্টারপ্রাইজ (জেভি)। 

আশুলিয়ার বাসিন্দা আবদুল হালিম, আমিরুদ্দিন ও কালাম জানান, সোমভাগ ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ এই নদী। প্রতিনিয়ত তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এছাড়া কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ঢাকার বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না, ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রিকশা, ভ্যান বা অন্য কোনো যানবাহন দিয়ে এখানে যাতায়াত সম্ভব নয়।

স্কুলশিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুর কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। নৌকায় পারাপারের কারণে স্কুলে যেতে দেরি হয়। বিকল্প হিসেবে ১০-১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। সেতুর কাজ দ্রুত শেষ হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। বর্ষায় খেয়া নৌকায় এবং শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পণ্য পরিবহনও সম্ভব হচ্ছে না। 

শিলা রানী সরকার বলেন, সকালে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নদীতে পানি বাড়লে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভিড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কাজ এখনো শুরু হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে। 

এ বিষয়ে কথা বলতে মেসার্স সুরমা অ্যান্ড খোশেদা এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।