আখেরাতের স্মরণে কবর জিয়ারত

আখেরাতের স্মরণের মাধ্যমে পার্থিব জীবনের অনিশ্চয়তার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। অনন্ত অসীম প্রকৃত জীবন আখেরাতের জন্য নেক আমল করার আগ্রহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়। আখেরাতের স্মরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো কবর জিয়ারত করা। এতে আল্লাহর ভয় অন্তরে সৃষ্টি হয়। এজন্য কবর জিয়ারত একটি উত্তম আমল। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে শহীদদের কবর জিয়ারত করতেন। রাসুল (সা.)-এর পর সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও এ আমল অব্যাহত ছিল। তাই কবর জিয়ারত করা এবং মৃতদের জন্য দোয়া করা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এর ওপর মুসলিম উম্মাহর ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং এর বিপরীত ধারণা পোষণ করা ইমানদারের লক্ষণ নয়। তবে এ কথা ঠিক যে, ইসলামের প্রথম দিকে মুসলমানদের ইমান আনাটা নতুন হওয়ায় কবর জিয়ারত নিষেধ ছিল। পরবর্তী সময়ে এর অনুমতি দেওয়া হয়। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর জিয়ারত করতে পারো। কেননা কবর জিয়ারত দুনিয়া বিমুখতা সৃষ্টি করে এবং আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (ইবনে মাজাহ)

জিয়ারতের মুস্তাহাব সময় : কোনো নিয়ম না বেঁধে পুরুষদের জন্য কবর জিয়ারত করা জায়েজ। প্রতি শুক্রবার না পারলে বৃহস্পতিবার বা শনিবার বা সোমবার জিয়ারত করার জন্য যাওয়া মুস্তাহাব। (রদ্দুল মুহতার ২/২৪২)

তবে এ তিন দিনের মধ্যে শুক্রবার যাওয়াই ভালো। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি জুমায় তার মা-বাবা বা তাদের একজনের কবর জিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারকারীদের মধ্যে গণ্য করা হবে।’ (আল মুজামুল আওসাত)

জিয়ারতের সুন্নত তরিকা : প্রথমে মৃতকে উদ্দেশ্য করে সালাম প্রদান করা। অতঃপর দরুদ শরিফ পাঠ এবং কুরআন মাজিদ থেকে তিলাওয়াত করা। বিশেষ করে সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সুরা ইয়াসিন, সুরা মুলক, সুরা ইখলাস, সুরা তাকাসুর ইত্যাদি সুরা পড়া। তারপর হাত না উঠিয়ে মৃতদের জন্য ইসালে সওয়াব করা। তবে হাত উঠাতে চাইলে জিয়ারত শেষে কিবলামুখী হয়ে কবরবাসীর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা যাবে। (রদ্দুল মুহতার ২/২৪২)