বান্দরবানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি থাকলে যেকোনো দেশ, যেকোনো সমাজ এগিয়ে যেতে পারে। বৈচিত্র্যময়তা আমাদের বেশি। কিন্তু সেই বৈচিত্র্যকে আমরা শক্তিতে রূপান্তর করতে পারি যদি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি। সে চেষ্টা বহাল আছে। যেখান শান্তি থাকবে সেখানে কেউ তার টাকা ঢালতে যাবে না। শান্তি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন। এখানে বিপুল সম্ভাবনা আছে।’ 

গতকাল রবিবার সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষক ও নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য গৃহীত স্কিম বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই সরকার চায়, পাবর্ত্য তিন জেলায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক। যদি শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়, এখানে বিপুল সম্ভাবনা আছে। তবে স্বল্প সময়ে আমরা সবকিছু করতে পারব না। তবে শুরু করে  যেতে চাই। আগামী কিছুদিনের মধ্যে যেন শান্তিভাব ফিরে আসে। একটা সহঅবস্থান নিশ্চিত হয়। এটি করতে পারলে আমরা অনেক এগিয়ে যাব।’ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সার্বিকভাবে আমাদের সম্পদ কম। আমাদের সম্পদ মানুষ। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। গত ১৯ বছরে শিক্ষার অবনতি হয়েছে। জিপিএ ৫-এর পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বেজে গেছে। তবে এর পরিবর্তন শুরু হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, ‘বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ৪ লাখ মানুষের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার মানুষ অতীব দরিদ্র। আর খাগড়াছড়িতে ৬ লাখ মানুষের মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার এবং রাঙ্গামাটিতে সাড়ে ৫ লাখ মানুষের মধ্যে ৯০ হাজার মানুষ অতীব দরিদ্র। আর সবদিক থেকে বান্দরবান পিছিয়ে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পার্বত্য এলাকার বাজেট কমার কারণ হলো অর্থ ফেরত যাওয়া।’ 

পরে বান্দরবান সদর উপজেলার ৩০০ জনের মাঝে ফলদ, বনজ, বাঁশ ও কফির চারা বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া ১১৬ জনের মাঝে বিতরণ করা হয় গবাদিপশু, ৩০ জনকে দেওয়া হয় সেলাই মেশিন, ৩১ জনকে দেওয়া হয় মাতৃসেবা অনুদান এবং ৫ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ক্রীড়াসামগ্রী। পর্যায়ক্রমে কৃষক ও নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য অন্য উপজেলায়ও স্কিমগুলো দেওয়া হবে বলে জানান আয়োজকরা।