বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী চলতি বছর তিনটি যৌথ মহড়া এবং একটি নতুন দক্ষতা সংযোজনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব বজায় রাখবে, যা দুই দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে আরও দৃঢ় করবে। এই প্রচেষ্টাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করে তুলবে। গতকাল রবিবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক মিডিয়া নোটে এসব কথা জানিয়েছে।
টাইগার লাইটনিং মহড়া : এই মহড়াটি চতুর্থ বছরের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র আর্মি প্যাসিফিক একত্রে পরিচালনা করবে। বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৈনিকরা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, জঙ্গলে অভিযানের কৌশল, আহতদের দ্রুত স্থানান্তর এবং তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) প্রতিরোধে সক্ষমতা অর্জন করবে।
টাইগার শার্ক ২০২৫ : ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘ফ্ল্যাশ বেঙ্গল’ সিরিজের অংশ এ মহড়ায় অংশ নেবে বাংলাদেশ স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ ইউনিট এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড। যৌথ মহড়াটিতে ব্যবহৃত হবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম। প্রশিক্ষণে থাকবে যুদ্ধকৌশল অনুশীলন, প্যাট্রল বোট পরিচালনা ও স্বল্পপাল্লার অস্ত্রের মাধ্যমে লক্ষ্যভেদের দক্ষতা অর্জন।
প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল মহড়া : চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে আয়োজিত এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের যৌথ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে সি-১৩০ পরিবহন বিমানের ব্যবহারে দুর্যোগকালে ত্রাণ সরবরাহ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার (এসএআর) এবং অ্যারোমেডিকেল কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে।
আরকিউ-২১ কর্মসূচি : বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সঙ্গে একত্রে যুক্তরাষ্ট্র চালু করছে মানববিহীন আকাশযান ব্যবস্থা ‘আরকিউ-২১ ব্ল্যাকজ্যাক’। একটি বিশেষায়িত রেজিমেন্ট এই সিস্টেম পরিচালনা করবে, যা সীমান্ত নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে শুধু আরও মজবুতই করবে না, একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।