দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার্ভেয়ার ত্রুটির কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে পার্বতীপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বা নিম্ন ভোল্টেজের সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পুরো উত্তরাঞ্চল বিদ্যুৎবিহীন ছিল। সার্ভেয়ার ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার
তৃতীয় ইউনিট এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার সন্ধ্যায় একমাত্র সচল প্রথম ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত হয়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সার্ভেয়ার ত্রুটির কারণে দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে।
সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার ভোর থেকে তৃতীয় ইউনিটে সার্ভেয়ার ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়। এই ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৫০-১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো, যার জন্য দৈনিক ১ হাজার ৬০০ টন কয়লার প্রয়োজন হতো। এ ছাড়া, সোমবার দুপুর ১টার দিকে প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়, যেখান থেকে প্রতিদিন ৫০-৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো এবং এর জন্য দৈনিক ৭০০-৮০০ টন কয়লা ব্যবহৃত হতো। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে গত ৪ বছর ৮ মাস ধরে দ্বিতীয় ইউনিটটি সংস্কারের জন্য ওভারহোলিংয়ের কাজ চলছে। এই ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৬৫-৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো।
পার্বতীপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে ১ লাখ ১০ হাজার সাধারণ গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৮-২০ মেগাওয়াট, কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০-১১ মেগাওয়াট। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ-২ পার্বতীপুর জোনাল অফিসের আওতায় প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন, কিন্তু চাহিদার তুলনায় সর্বোচ্চ ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পার্বতীপুর কার্যালয় জানায়, পার্বতীপুর শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ৬-৭ মেগাওয়াট, কিন্তু বরাদ্দ মিলছে মাত্র ৩-৪ মেগাওয়াট। শহরে নেসকোর আওতায় প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন, কিন্তু বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সর্বোচ্চ ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎবিহীন বা নিম্ন ভোল্টেজের সমস্যায় ভুগছেন। তিনটি ইউনিট স্বাভাবিকভাবে চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৫,২০০ টন কয়লার প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত তিনটি ইউনিট একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কোল ইয়ার্ডে ৩ লাখ ৯০ হাজার টন কয়লা মজুদ রয়েছে। এই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সরবরাহকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, গত ২৩ জুন থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ১৩০৫ ফেইজের কয়লা মজুদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে কয়লা উত্তোলন পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, তৃতীয় ও প্রথম ইউনিটের মেরামত কাজ চলছে। সার্ভেয়ার ত্রুটির কারণে এই দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, দুটি ইউনিট চালু হলে এ অঞ্চলে লোডশেডিং অনেকটাই কমে আসবে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই দুটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরবে।