প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান পদে থাকতে পারবেন না

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না মর্মে একমত হয়েছে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ রাজনৈতিক দল ও জোট। কিছু দল ও জোট এ বিষয়ে ভিন্নমত ব্যক্ত করেছে। এ দল ও জোটগুলো জাতীয় সনদে নোট অব ডিসেন্ট দিতে পারবে।’

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৭তম দিনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ কথা বলেন।

এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে উল্লেখ করে কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আজকের (গতকাল) আলোচনায় এ বিষয়ে আরও কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে ২০ জুলাই রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমিশন একটি সংশোধিত ও সমন্বিত প্রস্তাব সব দলের কাছে পাঠায়। এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে দলগুলোকে মতামত দিতে বলা হয়। আজ মঙ্গলবার (গতকাল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কমিশনের অধিকাংশ প্রস্তাবের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করে তাদের মতামত উপস্থাপন করে। আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, ‘জধহশবফ ঈযড়রপব’ পদ্ধতির ব্যবহার বিষয়ে এখনো একমত হওয়া যায়নি। আগামীকাল পুনঃআলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আজকের (গতকাল) আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।