মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি

কারণ খুঁজতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বহু হতাহতের কারণ খুঁজতে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় আহতদের যথাযথ ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেয়। আদেশে সাত দিনের মধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন এবং ৪৫ দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি সারা দেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে রক্তের গ্রুপ ও  অভিভাবকের মোবাইল নম্বর লেখার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রুলে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা করে এবং আহতদের এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনবহুল এলাকায় বিমান চালনার প্রশিক্ষণ বন্ধ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন। এতে এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন এবং ঢাকাসহ দেশের সব জনবহুল এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ বিমান এবং যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন শুনানিতে দীর্ঘদিনের পুরনো বিমান দিয়ে কীভাবে প্রশিক্ষণ হয় সে প্রশ্ন তুলে বলেন, গত কয়েক বছর এ-রকম অনেকগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পাবলিক এরিয়ার মধ্যে এই ধরনের সিস্টেম (প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন) থাকা উচিত নয়। যদি এ ধরনের পুরনো বিমান দিয়ে প্রশিক্ষণ না হতো তাহলে এসব মৃত্যু এড়ানো যেত। অ্যাডভোকেট সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। জনবহুল এলাকার ওপরে কীভাবে পুরনো বিমান দিয়ে প্রশিক্ষণ চলে শুনানিতে সে প্রশ্ন রেখেছি আমরা। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে নির্দেশনা ও রুল দিয়েছে।’