যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এর আওতায় জাপানি পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে বর্ধিত এ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প এ চুক্তিকে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় চুক্তি বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, চুক্তির আওতায় জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে, যার ৯০ শতাংশ মুনাফা যুক্তরাষ্ট্র পাবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
গতকাল বুধবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেন, আমরাই বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা পরিমাণের শর্ত ছাড়াই গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক কমাতে পেরেছি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকা দেশগুলোর মধ্যে আমরাই সবচেয়ে বড় ছাড় আদায় করতে পেরেছি। এ ঘোষণার পরই জাপানের শেয়ারবাজারে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা টয়োটার শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। তবে চাল আমদানি নিয়ে ট্রাম্প ও ইশিবার বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। ট্রাম্প বলেছেন, জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে গাড়ি, ট্রাক, চালসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানির জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। কিন্তু জাপানে চাল আমদানি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় এবং সম্প্রতি নির্বাচনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো ইশিবা সরকার এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়ার বিপক্ষে ছিল। ইশিবা দাবি করেন, এ চুক্তিতে জাপানের কৃষি খাতের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়নি।
১ আগস্টের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি না করলে বিভিন্ন দেশের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। এখন পর্যন্ত জাপান ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনা নিরসনে আগামী সপ্তাহে স্টকহোমে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কথা রয়েছে।